একমাস সিয়াম সাধনার সময় আমাদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন হয়। এরপর আসে আনন্দের ঈদ। ঈদের সময় অনেক ধরনের রিচ ফুড খাওয়ার ফলে অনেকেই ফুড পয়জনিংয়ের শিকার হন। ফুড পয়জনিং রোগটি সাধারণ হলেও এই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা দরকার। কারণ প্রবীণ ও শিশুদের জন্য সমস্যাটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
কারণ : ই.কোলি, সালমোনেলা এবং লিস্টারিয়া জাতীয় ব্যাকটেরিয়া হলো খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিং হওয়ার বড় কারণ। ভাইরাস, বিশেষত নোরোভাইরাস, যা নরওয়াক ভাইরাস নামেও পরিচিত, এর কারণেও খাদ্য বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া পরজীবী সৃষ্টিকারী খাদ্য বিষক্রিয়ার মধ্যে সব থেকে সাধারণ হলো টক্সোপ্লাজমা।
লক্ষণ : ডায়রিয়া হওয়া। ক্ষুধা না পাওয়া। পেটে ব্যথা করা। বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া। ক্লান্তি লাগা। জ্বর জ¦র বোধ করা। মাথাব্যথা করা। খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণে জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তখন এর লক্ষণগুলো হলো ১০১.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চেয়ে বেশি জ্বর হলে। তিন দিনের বেশি ডায়রিয়ায় ভুগলে। কথা বলা বা দেখার অসুবিধা বোধ করলে। মারাত্মক ডিহাইড্রেশন দেখা দিলে।
কারা ঝুঁকিতে : শিশু, ছোট বাচ্চাদের এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে খাদ্য বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি। কারণ, এদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে বিপাক এবং বিভিন্ন পরিবর্তন তাদের শরীরে খাদ্য বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। লিভার ডিজিজ, এইডস এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলো প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে আনতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাদ্য বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি।
জটিলতা : তীব্র ডিহাইড্রেশন খাদ্য বিষক্রিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর জটিলতা। ই.কোলি ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি হেমোলিটিক ইউরেমিক সিনড্রোম নামক মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা কিডনিজনিত সমস্যার সৃষ্টি করে। এ ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক, দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতাযুক্ত ব্যক্তি এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জটিলতা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
চিকিৎসা : খাদ্য বিষক্রিয়া হলে বাড়িতেই চিকিৎসা করা যেতে পারে এবং তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। নিজেকে সারাক্ষণ হাইড্রেটেড রাখুন। শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে ইলেকট্রোলাইট পানি পান করুন। খাদ্য বিষক্রিয়ায় হাসপাতালে ভর্তি থাকলে ইন্ট্রাভেনাস অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা চিকিৎসা প্রয়োজন। রোগীর অবস্থা জটিল হলে চিকিৎসকরা শিরার মাধ্যমে স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা করেন। ফুড পয়জনিং বা খাদ্য বিষক্রিয়ার সময় যা খাবেন তা হলো কলা, ভাত, মুরগির পাতলা ঝোল, সেদ্ধ শাকসবজি, টোস্ট, ফলের রস বা ডাবের পানি। যেসব খাবার খাবেন না তা হলো চর্বিযুক্ত খাবার, দুগ্ধজাত খাবার, মসলাদার এবং ভাজা খাবার, উচ্চ চিনিযুক্ত খাবার, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়রিয়া প্রতিরোধী ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। ডায়রিয়া বন্ধ করাই ফুড পয়জনিংয়ের সমাধান নয়। অনেক সময় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এমন পর্যায়ে চলে যায় যে অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া দমন করা কঠিন। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক কোর্সের প্রয়োজন পড়তে পারে। এমন অবস্থায় ডাক্তার অ্যান্টি-টক্সিন ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারেন যা বিষক্রিয়াকে নিষ্ক্রিয় করবে। খাদ্যে বিষক্রিয়ার সময় আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক সক্রিয় হয়ে ওঠে আর সে জন্যই বিশ্রাম খুবই উপকারী। ফুড পয়জনিংয়ের সময় নিয়ম মতো খাওয়া ও বিশ্রাম দ্রুত সেরে ওঠার জন্য সহায়ক।