ভারতের রাজস্থান থেকে আনা দুই 'গাধা'কে দেখতে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পল্লীতে গড়ে ওঠা 'দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক' এখন দর্শনার্থীদের ভিড়ে সরগরম এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দের দিনে, ছেলে-মেয়ে এবং বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের সমাগমে আরও রঙিন হয়ে ওঠে এই মিনি চিড়িয়াখানা। ঈদের দ্বিতীয় দিন হাজারো দর্শনার্থী এখানে আসেন। কেউ পরিবারের সঙ্গে, কেউ বন্ধু-বান্ধবের সাথে।
ছায়া সুনিবিড় গাছের তলায় ঘুরে ঘুরে তারা বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখি দেখছেন। দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় যেন এক আনন্দনগরীতে পরিণত করেছে। এখানে রয়েছে পশু-পাখি, শিশুদের খেলনা, সূর্যমুখী ফুলের সেলফি বুথ এবং একটি ওভার ব্রিজ। ইতোমধ্যে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নতুন কিছু কাজও করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা রয়েছে।
এই মিনি চিড়িয়াখানা গড়ে তুলেছেন, দিনাজপুর পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের তাহেরপাড়া গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার মো. রইচউদ্দিন মিঞা বাবলু। দুই বছর আগে দুই একর জায়গায় শুরু হওয়া এই মিনি চিড়িয়াখানার পরিধি এখন অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে এখানে ভারতের রাজস্থান থেকে আনা দুই গাধা, মরুভূমির প্রাণী দুম্বা, বিদেশি ছাগল, তিন পা ওয়ালা গরু, পিকনিক স্পট, ঘোড়ার গাড়ি, ঘোড়ার পিঠে চড়া, উটপাখি, ময়ূর, বানর, অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘু, কচ্ছপ, জার্মান স্পিস কুকুর, মায়াবি চিত্রা হরিণ, ব্রাহমা মোরগ, বিলেতী ইদুঁর, চীনা হাঁস, ব্রাহামা মুরগি, বিদেশি বিড়াল, ইমু পাখি, ককটেল পাখি, বিদেশি কুকুর ও খরগোশসহ নানা প্রজাতির প্রাণী রয়েছে।
এছাড়াও, এখানে ক্যাফে, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকীসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানও উদযাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মিনি চিড়িয়াখানায় যেতে হলে, দিনাজপুর-ফুলবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের মাঝপথে আমবাড়ী হয়ে ৫ কিলোমিটার, পার্বতীপুর শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার এবং ফুলবাড়ী থেকে ২০ কিলোমিটার দূরত্ব পার করে তাহেরপাড়া বাজার আসতে হবে। মিনি চিড়িয়াখানার প্রবেশমূল্য মাত্র ৩০ টাকা।
দিনাজপুর থেকে মেয়ে আয়শা আক্তার রিতা (৫) কে নিয়ে আসা কুরবান আলী জানান, মেয়ের বায়না ছিল ঈদের দ্বিতীয় দিন পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে চড়বে। দোলনায় চড়বে ও পশু-পাখি দেখবে। তাই গ্রামের প্রত্যান্ত পল্লীতে ছাঁয়া সুনিবিড় পরিবেশে গড়ে তোলা মিনি চিড়িয়াখানায় এসেছেন। তিনি বলেন, ‘মেয়ের আনন্দই তো আমার আনন্দ।’
তাহেরপাড়া এলাকার ৮নম্বর ইউপি সদস্য শ্রী মতি লাল রায় জানান, আমাদের গর্ব এই মিনি চিড়িয়াখানাটি। কারন এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে দর্শনার্থীরা আসছে। চিড়িয়াখানটি আস্তে আস্তে পরিচিতি লাভ করছে। এই চিড়িয়াখানা কে কেন্দ্র করে তাহেরপাড়া বাজারে গড়ে উঠেছে অনেক ছোট বড় দোকান-পাট।
দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছেন। চিড়িয়াখানার প্রবেশমুখে মোটরসাইকেল, মাইক্রো, কার, অটো চার্জার রিকশার গ্যারেজ রয়েছে। চিড়িয়াখানার ভিতরে অস্থায়ী দোকানও বসানো হয়েছে। এখানে একটি ওভার ব্রিজ পার করে উত্তরে ছায়া নিবিড় বাশঁ বাগান রয়েছে, তার পাশে পিকনিক স্পট রয়েছে। এছাড়া, নামাজ ঘর, পানীয় জল এবং টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কের কেয়ারটেকার মো. তৌফিক জানান, ঈদের দিন থেকে শিশু থেকে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ মিনি চিড়িয়াখানায় ভিড় করেছে। ঈদ উপলক্ষে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর আনাগোনায় সরব ও উৎসবমূখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দর্শনার্থীরা চিড়িয়াখানার বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ঘুরে ঘুরে দেখছে। গতকাল ঈদের দ্বিতীয় দিন আরও চাপ বেড়েছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মো. রইচউদ্দিন মিঞা বাবলু বলেন, ‘শখের বশে বিনোদনের জন্য দুই বছর আগে এই জায়গাতে দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক গড়ে তুলি। দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণ বাড়াতে সব ধরনের চেষ্টা করছি।বর্তমানে ভারতের রাজস্থান থেকে আনা হয়েছে দুটি গাধা। আরো নতুন আকর্ষণ হচ্ছে উটপাখি, ঘোড়ার গাড়ি, ঘোড়ার পিঠে চড়াসহ আরও নানা ধরনের পশুপাখি আনা হয়েছে। আগামী ঈদে হাতি ও বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির প্রাণীও এখানে আনার ইচ্ছে রয়েছে।’