চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

অন্যবারের তুলনায় এবারের ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের দিন বিকেলে থেকে এবং মঙ্গলবার সকাল থেকে নগর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন। যার মধ্যে শিশু-কিশোরদের সরব উপস্থিতি ছিল।

চট্টগ্রামে দর্শনার্থীদের আগ্রহের শীর্ষে ছিল চিড়িয়াখানা, ফয়’স লেক, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এবং নগরের বাইরে আনোয়ারায় পারকি সমুদ্র সৈকত। নগরে বিনোদন কেন্দ্রের স্বল্পতা থাকলেও গত বছরের মাঝামাঝি সময় নগরের আগ্রাবাদের কর্ণফুলী শিশুপার্ক ও চান্দগাঁওয়ের স্বাধীনতা কমপ্লেক্স পার্ক বন্ধ থাকায় সেখানে গিয়ে ফিরে আসছেন দর্শনার্থীরা। পার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চালু থাকা বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে চাপ বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন সাধারণ দর্শনার্থী এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বরতরা।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন আবুল হাসনাত নিশান। দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিকেলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার চিন্তা করেছিলাম ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে। কিন্তু, পরিচিত একজন থেকে জানলাম আউটার রিং রোডে চতুর্থমুখী জ্যামের কারণে যাওয়া কষ্টকর হবে। তাই পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানায় চলে এলাম। এখানে ভিড় হলেও তুলনামূলক অন্য জায়গা থেকে কম।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবার ঈদের দিন থেকেই দর্শনার্থীদের চাপ ছিল। ঈদের দিন থেকে বুধবার পর্যন্ত ৫০ হাজারের অধিক দর্শনার্থী এসেছে চিড়িয়াখানায়। প্রথমদিন ১৫ হাজার মানুষের মতো এলেও গত দুই দিনে তা বেড়ে ২০ হাজারের অধিক হয়েছে। এই ভিড় আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।

শুভ জানান, চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের বেশি আগ্রহ ছিল বাঘ, সিংহ, হরিণ, বানর নিয়ে। এসব প্রাণীর খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই ছিল। পশুপাখি দেখতে শিশু-কিশোরদের আগ্রহই বেশি চোখে পড়েছে। কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা নিয়ে মানুষের আগ্রহ জন্মেছে বলে জানালেন শাহাদাত হোসেন। এর কারণ আগের চেয়ে এখানে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। পশুপাখির বৈচিত্র্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

চিড়িয়াখানার পাশেই রয়েছে ফয়'স লেক। সেখানেও দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে ছিল। এখানে তিনটি অংশ রয়েছে—ফয়’স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট, সি ওয়ার্ল্ড ও বেস ক্যাম্প। সবখানে মানুষের সরব উপস্থিতি।

মঙ্গলবার বিকেলে দেখা যায় সি ওয়ার্ল্ডের ওয়েভ পুলে শত শত মানুষ গানের তালে তালে আনন্দে মেতেছেন। নানা বয়সী মানুষ মেতে উঠেছেন জলকেলিতে। পার্কের রাইডগুলোতেও চড়ে বসেছে অনেক শিশু-কিশোর।

ফয়’স লেক কমপ্লেক্সের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কনকর্ডের ব্যবস্থাপক (বিপণন) বিশ্বজিৎ ঘোষ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে গত তিনদিনে ফয়েস লেকের তিন অংশেই ব্যপক ভিড় ছিল। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা দলবলে এসেছেন সি ওয়ার্ল্ডে। তুলনামূলক একটু বয়স্ক যারা তারা ফয়েস লেকের ড্রাই পার্কে কিংবা লেকে বোট চালিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। তিনদিনে এখানে এসেছেন প্রায় পনের হাজারের মতো দর্শনার্থী। বিশ্বজিৎ আরও জানান। এবার নতুন করে ছয়টি রাইড যুক্ত হওয়ায় মানুষের আগ্রহ বেড়েছ।

পরিবার নিয়ে ফয়’স লেকে ঘুরতে এসেছেন নগরের হালিশহরের বাসিন্দা মির্জা আমজাদ। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, সারা মাস তো কাজে-কর্মে কেটে যায়। তাই ঈদের বন্ধে পরিবার নিয়ে ফয়'স লেকে এসে আনন্দ করি। এই সময়ে ওপেন স্পেসগুলোতে মানুষ থাকে বেশি তাই পরিবার নিয়ে ফয়'স লেকে চলে আসি। সারাদিন ঘোরাফেরা করে রাতে বাইরে খেয়ে বাসায় যাব আপাতত এটাই প্ল্যান।

নিরাপত্তা ও দর্শনার্থীদের ব্যাপারে ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার, উত্তম প্রসাদ পাঠক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা নগরের প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রেগুলোতে আমাদের অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছি। পতেঙ্গা সাগরে ভিড় বেশি থাকে বলে সেখানে আমাদের ফোর্স বেশি থাকছে। গত তিনদিনে আমাদের ইউনিট সাগর পাড়ে হারিয়ে যাওয়া ২০ জন বাচ্চাকে তাদের পরিবারের হাতে বুঝিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া আমরা ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি করছি।