ঈদের ছুটি শেষ হতে এখনো তিনদিন বাকি। ফলে রাজধানী এখনো ফাঁকা। নিত্যপণ্যের বাজারগুলোয় ক্রেতা নেই বললেই চলে। কারণ, ঢাকার জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ ঈদ উপলক্ষে ঢাকা ছেড়ে গেছে। এমন হাঁকডাকহীন বাজারে কমেছে শাক-সবজির দাম। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে লেবু ও শসা। মাংসের বাজারে মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও আগের দামে বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির মাংস। ঈদের পরদিন সব বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে গতকাল থেকে খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট।
সরেজমিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল বাজার ঘুরেও দেখা যায়, ক্রেতার আনাগোনা কম। তাই অধিকাংশ বিক্রেতাও অলস সময় পার করছেন। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে ক্রেতার চাহিদা কম। তাই বেশির ভাগ পণ্যের সরবরাহ কিছুটা কম।
কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজারের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, রোজায় যে পটোল বিক্রি হতো ১০০ টাকায়, এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। ঢেঁড়স ও বরবটি ঈদের আগে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। এ ছাড়া কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১২০ টাকা, শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা ও পেঁপে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে আকারভেদে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং প্রতিকেজি শসা ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ঈদের আগে রোজার সময় লেবুর দাম হালিতে ১০ টাকা ও শসার দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি ছিল। তবে টমেটোর দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ২০ টাকা। হাতিরপুলের কাঁচাবাজার সবজি বিক্রেতা আবদুল বাসির বলেন, ‘তিন দিন আগেও টমেটো ৩০ টাকা কেজিপ্রতি বিক্রি হলেও এখন বিক্রি করছি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের পরদিন সব বাজারেই অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে গতকাল থেকে খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট। ক্রেতাদের বেশির ভাগই জানান, তারা খুব জরুরি প্রয়োজনে বাজারে এসেছেন। অনেকে ঈদের ছুটিতে আত্মীয়স্বজনের বাসায় দাওয়াত করে খাওয়ান। তাই সেই উপলক্ষে অনেকে বাজার করতে আসছেন।
এখন তরমুজের মৌসুম। কিন্তু ঈদের তৃতীয় দিনের বাজারে তরমুজের বেচাকেনাও থমকে গেছে। হাতিরপুল বাজারের এক তরমুজ বিক্রেতা জানান, রোজার সময় প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি তরমুজ বিক্রি করতেন তিনি। গতকাল বিক্রি হয়েছে হাতে গোনা দু-একটি।
এদিকে বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত আগের দামে মুরগি বিক্রি হলেও গতকাল মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। ব্রয়লার মুরগি ২১০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সোনালি মুরগির কেজিতে দাম হাঁকা হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। অর্থাৎ সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে।
অন্যদিকে গরুর মাংসের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ঈদের আগের দিনও এ দামেই গরুর মাংস বিক্রি হয়েছিল। তবে বাজারে গরু ও খাসির মাংসের ক্রেতার উপস্থিতি বেশ কম।