ঈদের ছুটিতে গাজীপুরের বিভিন্ন পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো মুখরিত হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের পদচারণায়। ঈদের দিন থেকেই নানা বয়সী ও শ্রেণি পেশার মানুষের আগমনে এসব বিনোদন কেন্দ্রগুলো জমজমাট হয়ে ওঠেছে। গাজীপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ সাফারি পার্ক। গাজীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা সপরিবারে আসছেন সাফারি পার্কে। ঈদ আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে পার্কটি।
সাফারি পার্কের মূল গেটে প্রবেশ মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা, ১২ বছরের কমবয়সী শিশুদের জনপ্রতি ২০ টাকা, শিক্ষার্থীদের ১০টাকা ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও কোর সাফারিতে প্রবেশ মূল্য, প্রাপ্ত বয়স্কদের ১৫০ টাকা, শিক্ষার্থীদের ৫০ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১২ বছরের নিচে) ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাফারি পার্কে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আয়তনের এ পার্কে প্রবেশ করতে টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিয়ে মূল গেটে প্রবেশ করছেন দর্শনার্থীরা। কোর সাফারির আলাদা পার্কের বেষ্টনীতে উন্মুক্ত পরিবেশে রয়েছে বাঘ, ভালুক, সিংহ, জেব্রা, জিরাফসহ আফ্রিকান বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর অবাধ বিচরণ। এটি দেখতে সেখানেও বাসে ওঠার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী। এ ছাড়াও পার্কের অন্যান্য দেশি বিদেশি পাখিশালা, প্রাণী বেষ্টনীতেও ভিড় করছেন তারা। সাফারি পার্কের মুক্ত পরিবেশে জীবন্ত পশুপাখির ছোটাছুটি ও নানা কসরত দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন তারা।
নরসিংদীর শিবপুর থেকে থেকে সাফারি পার্ক দেখতে আসা সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি মা, স্ত্রী ও স্বজনদের নিয়ে পার্কে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পরিবারের স্বজনদের নিয়ে পার্কে বেড়ানোর মজাই আলাদা। বিশেষ করে ছোট শিশুরা সাফারি পার্ক দেখে খুবই খুশি। তাছাড়া বৃক্ষ আচ্ছাদিত রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ায় রোদের কোনো তাপ নেই।’
টাঙ্গাইল থেকে চার বন্ধু ঘুরতে এসেছেন গাজীপুর সাফারি পার্কে। তারা বলেন, ‘এবারই প্রথম সাফারি পার্ক দর্শনের জন্য এসেছি। বিশাল আয়তনের প্রাকৃতিক পরিবেশে জীবন্ত পশুপাখি দেখার মজাই আলাদা। বিশেষ করে কোর সাফারিতে বাঘ, ভালুক, সিংহ দেখে অভিভূত হয়েছি। উন্মুক্ত পরিবেশে বাদর, হনুমান, হাতি, জিরাফ, জেব্রার পাল দেখে ভাল লেগেছে।’
এমারত হোসেন নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ‘সাফারি পার্কে উন্মুক্ত পরিবেশে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর বিচরণ দেখতে পাওয়া যায়। যা চিড়িয়াখানা থেকে ভিন্ন অনুভূতি।’
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বনসংরক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাফারি পার্কে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও আনন্দের কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ পার্কের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে। এ ছাড়া কোর সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য সাতটি অবজারভেশন গাড়ি চলাচল করছে। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য পুরো পার্কটি প্রস্তুত রয়েছে। তবে এবার যে এত পরিমাণ দর্শনার্থী আসবে তা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল। ঈদের দিনও পার্কে প্রায় ১২ হাজার দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছিল। এবার ঈদে লম্বা ছুটি থাকায় পার্কে দর্শনার্থীদের সংখ্যাও অনেক বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।’
এ ছাড়া গাজীপুরে শতাধিক রিসোর্ট রয়েছে। এসব রিসোর্টের কোনোটিই খালি পড়ে নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে কেউ আসছেন রাত যাপন করতে আবার কেউ আসছেন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডে লং প্রোগ্রামে। সারা দিন সুইমিং পুলে গোসল করা, ঘুরে বেড়ানো এবং দুপুরে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এসব রিসোর্ট গুলোয়। মান ও শ্রেণিভেদে এসব রিসোর্টগুলোর রেটও আলাদা। আগে বুকিং না দিয়ে আসলে পাওয়া যাবেনা কোনো কক্ষ। বিভিন্ন রিসোর্টে শিশুদের জন্য রয়েছে নানা ইভেন্ট এবং খেলাধুলার সামগ্রী।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত ঢাকা রিসোর্টের মালিক এমারত হোসেন জানান, ঈদের আগে থেকেই যারা বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন তারা আসছেন। তবে অনেকে ডে লং প্রোগ্রামে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসছেন। তাদের জন্য দুপুরের খাবার, বিকেলের ¯েœকসসহ নানা আয়োজন রয়েছে।