পুনর্মিলনীতে প্রাক্তন ও বর্তমানদের মহোৎসব 

রামগতি রব্বানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রথম পুনর্মিলনী উপলক্ষে মাদ্রাসা অঙ্গণে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় এক মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকাল ৮ টায় মাদ্রাসা ময়দানে পুনর্মিলনীর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।  

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মোয়াজ্জম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নুরুল হক। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা টঙ্গী শাখার অধ্যক্ষ ড. হেফজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. শাহ্ মো. শফিক উল্লাহ,  রামগতি ও কমলনগর উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ.আর হাফিজ উল্লাহ। এ ছাড়াও অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রামগতি দ্বায়রা শরীফের পীর সাহেব শাহ আবদুল মোহাইমেন ও শাহ আবদুজ জাহের, রামগতি স্টুডেন্ট কমিউনিটি ঢাকা ( আরএসসিডি) এর সাবেক সভাপতি শাহ মাহমুদুল হাছান লিমন,  জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডাক্তার মিনহাজুল আবেদিন, প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের আহবায়ক মাওলানা ছাইফ উদ্দিন, সদস্য সচিব  ইঞ্জিনিয়ার হাসান মাহমুদ, এডভোকেট মিনহাজ উদ্দিন, তাওহীদুল ইসলাম তারেকসহ বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনেরা।

মিঞা মো. নুরুল হক বলেন, আমি দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের জান্নাত কামনা করছি।  এই মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করার জন্য বিগত সরকার অনেক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আগস্ট বিপ্লব না হলে আমাদের আয়নাঘরে যাওয়া লাগতো। আমরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারতাম না৷ আমাদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। ইবতেদায়ী মাদ্রাসা বন্ধ করা হয়েছে। আলেম ওলামাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতের কারণে সব ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেছে। এখন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। আমরা মাদ্রাসা শিক্ষা উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছি। ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে সরকারি ও এমপিওভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। আমরা প্রতিটি বিভাগে ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট স্থাপন করবো। শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালু করবো। 

শাহ্ মো. শফিক উল্লাহ বলেন, এই মাদ্রাসার ধুলাবালি আমার শরীরে লেগে আছে। আমি এই মাদ্রাসার ছাত্র। আমার পুরনো স্মৃতির কথা মনে করে মর্মাহত হয়ে গিয়েছি। আমার বন্ধুরা কেউ জীবিত নেই। তবুও আমি আবেগের টানে এখানে উপস্থিত হয়েছি। 

ড. হেফজুর রহমান বলেন, ওলামায়ে কেরাম সাথে থাকা মানে ঈমান ও দ্বীনের সাথে থাকা। তারা নিজেরাও আলোকিত হন, অন্যদেরও আলোকিত করেন। আমি এখানে আসতে পেরে শুকরিয়া আদায় করছি। আপনারাও আলেম। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, সত্য মানুষের কাছে উপস্থাপন করবেন, সৎ কাজে আদেশ দিবেন অসৎ কাজে নিষেধ করা, একে অপরের কল্যাণ কামনা করবো, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবেন। দ্বীন, চিন্তা ও ঈমানের উপর অটুট থাকবেন। 

মোয়াজ্জম হোসেন বলেন, প্রধান অতিথি ও আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা ইতোমধ্যে অনেককে হারিয়েছি আমরা সবার জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম কামনা করছি। আমি এখানে দায়িত্ব নেওয়ার পর উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করেছি।

এ আর হাফিজ উল্লাহ বলেন, আমি এই প্রোগ্রাম থেকে ফিলিস্তিনের ভাইদের জন্য দোয়া কামনা করছি। দেশের শিক্ষায় নৈতিকতা না থাকার কারণে আমাদের এই অবস্থা। আপনারা জানেন নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে ইসলাম, স্যার সলিমুল্লাহ থেকে মুসলিম বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি এই দেশের শিক্ষার্থীদের নাস্তিক করে দেওয়ার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা  পরিহারের জন্য প্রধান অতিথির কাছে অনুরোধ রাখবো। আমাদের দেশে সম্পদের অভাব নেই কিন্তু সৎ, যোগ্য নীতিবান লোক নেই বলেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে।