বাড়তি দাম ছাড়া মিলছে না টিকিট

পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপন শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে ঈদ করতে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে দেশের দীর্ঘতম সড়ক পথ পঞ্চগড়-ঢাকা রুটের এসব মানুষ প্রতিবারের মতো এবারও টিকিট বিড়ম্বনায় পড়েছেন। নির্ধারিত মূল্যে মিলছে না টিকিট। টিকিট পেতে গুনতে হচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ। যদিও সড়ক পরিবহন আইনে বলা আছে, নির্ধারিত ভাড়ার মূল্য তালিকা প্রদর্শন ছাড়া যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। কিন্তু কাউন্টারগুলোতে নেই কোনো মূল্য তালিকা। মৌখিকভাবে যাত্রীদের থেকে আদায় করা হচ্ছে টিকিটের মূল্য। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, টানা এক সপ্তাহ টিকিট আগাম বিক্রি হওয়ায় এ দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা থেকে যমুনা সেতু-বগুড়া-রংপুর-ঠাকুরগাঁও হয়ে পঞ্চগড় রুটের ২০২৪ সালের তালিকায় দেখা যায় বিআরটিএ কর্তৃক আদায়যোগ্য ভাড়া ১২১২ টাকা। এ বছর নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। এ অঞ্চলের যাত্রীরা জানান, জেলা সদর, তেঁতুলিয়া, আটোয়ারী, বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাস কাউন্টারে ননএসি বাসে ১৫০০-১৬০০ টাকা ছাড়া মিলছে না ঢাকাগামী বাসের টিকিট। যারা অতিরিক্ত দামে টিকিট নিতে আগ্রহী তাদেরই শুধু দেওয়া হচ্ছে টিকিট। নয়তো টিকিট নেই বলে ফেরত দেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের। বাস কাউন্টারগুলোতে চলছে অগ্রিম টিকিটের হাহাকার। কাক্সিক্ষত টিকিট পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

যাত্রীরা জানান, ঈদ ছাড়া অন্যান্য সময়ে পঞ্চগড়-ঢাকার টিকিটের মূল্য নেওয়া হতো ৯০০ টাকা। বর্তমানে ৯০০ টাকার টিকিট বাস কর্তৃপক্ষ ১২০০ টাকা নির্ধারণ করলেও নেওয়া হচ্ছে তার চেয়েও অনেক বেশি। টিকিটের ওপর ১২শ টাকা লেখা থাকলেও নেওয়া হচ্ছে ১৫০০-১৬০০ টাকা। এসব নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় একটি চক্রসহ টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।

আটোয়ারী উপজেলার হানিফ পরিবহনের কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করেন উপজেলার আব্দুল্লাহ আল আমিন ও শামীম নামে দুই শিক্ষার্থী। তাদের কাছে প্রতি টিকিটের মূল্য ১৫০০ টাকা করে নেওয়া হলেও টিকিটের গায়ে লেখা হয় ১২০০ টাকা। তারা বলেন, ‘আমরা ঈদের আগে ৯০০ টাকা করে আটোয়ারী থেকে ঢাকায় যাতায়াত করতাম। কিন্তু বাড়িতে ঈদ করে ঢাকায় ফেরার টিকিট কাটতে গিয়ে শুনি টিকিটের মূল্য এখন ১২০০ টাকা। আমরা ১২০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে চাইলেও বলা হয় টিকিট নেই। পরে ১৫০০ টাকা করে দিলে ৭ তারিখের টিকিট দেয়। এত বাড়তি টাকায় টিকিট নেওয়া আমাদের জন্য অনেক কঠিন। বিষয়টি সমাধান হওয়া উচিত।’

শুধু আটোয়ারী উপজেলাই নয়, পঞ্চগড় শহর, বোদা, দেবীগঞ্জ,  তেঁতুলিয়ার চৌরাস্তা বাজার, ভজনপুর, বাংলাবান্ধাসহ বিভিন্ন কাউন্টারের বিরুদ্ধে রয়েছে এমন অভিযোগ। হানিফ, শ্যামলী, নাবিল, ঢাকা এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন বাসে একই সিন্ডিকেট বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।

তেঁতুলিয়ার বাসিন্দা মুয়াজ ইবনে হারুন নামে ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শ্যামলী গাড়িতে ৬ তারিখে টিকিট তেঁতুলিয়া থেকে ১৫০০ টাকা। অথচ যেখানে অন্যান্য সময় ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা নিত। বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

বাড়তি ভাড়া নেওয়ার একই অভিযোগ করেন রাকিব, মাজেদুল ইসলাম সবুজ, আবু হাসান নামে আরও কয়েকজন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তেঁতুলিয়া শ্যামলী কাউন্টারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারস্থ হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের টিকিট মাস্টার মোস্তাক বলেন, ‘বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য ১৩৫৬ টাকা। তবে নেওয়া হচ্ছে ১৩০০ টাকা। আগে ৯০০ টাকা বিক্রি হতো, ওটা ডিসকাউন্টে দেওয়া হতো।’

আটোয়ারী হানিফ পরিবহন কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মাসুদ বলেন, ‘আটোয়ারী-ঢাকা রুটের টিকিট মূল্য ১২০০ টাকা। বেশি দামে টিকিট বিক্রি করিনি।’

বিআরটিএর পঞ্চগড় অফিসের মোটরযান পরিদর্শক হিমাদ্রি ঘটক বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সাবেত আলী বলেন, ‘পঞ্চগড়ের প্রতিটি গাড়ির কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো কাউন্টারে যাত্রীদের থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঈদের আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েকটি কাউন্টারে জরিমানাসহ সতর্ক করা হয়েছে।’