চার দিন পর সাতক্ষীরার খোলপেটুয়া ভাঙা বাঁধে বসল ক্লোজার

সাতক্ষীরার আশাশুনির আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন দেড় শ ফুট ভাঙনের ফলে ৪ দিন ধরে যে লোনা পানির প্লাবন সৃষ্টি হয়েছিল তা  রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এতে মানুষের কান্না এবং হাহাকার কমেছে।

চার দিনের লোনা পানির প্রবেশে সাতক্ষীরার এই উপকূলীয় জনপদে বন্যা ও প্লাবনের দুর্বস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। এই ক্লোজার সম্পন্ন হওয়ার ফলে সেই দুর্ভোগ প্রাথমিকভাবে কমে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু দাউদ মোড়ল।

তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড সাংবাদিকদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এক সপ্তাহের। কিন্তু তারা চারদিনের মাথায় সেই কাজ সম্পন্ন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবাসী মনে করে এই মাসের মধ্যে রিং বাঁধ সম্পন্ন হবে।

আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস বলেন, ঈদুল ফিতরের দিন নদীবাঁধের ভাঙনে প্রবল জোয়ারের লোনা পানি ঢুকে পড়েছে ২০ গ্রামে। পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে দশ গ্রাম। হাজার হাজার বিঘা মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। পাকা ধান কাটার আগেই লোনা পানিতে ভেসে গেছে। বল্লভপুরের খ্যাতনামা নার্সারির সব গাছ নষ্ট হয়েছে। ৫ শতাধিক কাঁচাঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বসে গেছে। সহস্রাধিক ঘর ধ্বসে যাওয়ার উপক্রম। এ অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃক ক্লোজার সম্পন্ন হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে এসেছে স্বস্তি।

চেচুয়া গ্রামের ফারজানা জানান, এলাকাজুড়ে এখনও জলাবদ্ধ সব পানি নেমে যায়নি। তবে বড় সমস্যা হচ্ছে লোনা পানিতে মরে যাওয়া সাদা মাছ, মৃত গরু ছাগলের দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত করে তুলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ শহিদুল আলম বলেন, ৭ এর ২ পোল্ডারে খোলপেটুয়া নদী বাঁধ ভাঙনের সঙ্গে সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড নিজেদের ছুটি বাতিল করেন এবং নেমে পড়েন ক্লোজার নির্মাণের কাজে। সেই কাজ আজ জিও টিউবে সম্পন্ন হলো স্থানীয় সাধারণ মানুষের আন্তরিক সহায়তায়।

প্রকৌশলী শহিদুল বলেন, ঈদকালীন ছুটির কারণে পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে আরও দ্রুত এই বাঁধ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো।