কুড়িগ্রামের চর রাজীবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর বিলপাড়া এলাকায় গোয়ালঘরে জ্বালানো কয়েলের আগুন থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে গরু-ছাগলসহ সবকিছু পুড়ে নিঃস্ব হয়েছে চার দিনমজুর পরিবার। অগ্নিকান্ডে ৯টি ঘর, আসবাবপত্র, নগদ টাকা, খড়ের গাদাসহ ৫টি গরু ও ২০টি ছাগল পুড়ে মারা গেছে। এতে অন্তত ২২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চার পরিবারের। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুররা হলেন মিজানুর, কাবেল, রশিদ ও ফজল হক।
জানা যায়, প্রতিরাতের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও গরুর গোয়ালঘরের মশা তাড়াতে কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন মিজানুরের পরিবার। রাত ১১টার দিকে আগুনের তাপে ঘুম ভাঙে তাদের। তাদের চিৎকারে বাকি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ এলাকাবাসী আগুন নেভাতে ছুটে আসে। মুহূর্তে আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে পার্শ্ববর্তী ফজল হক, কাবেল ও রশিদের বসতবাড়িতেও আগুন লেগে যায়। এতে মিজানুরের দুটি ঘর, নগদ ৬০ হাজার টাকাসহ একটি গরু অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। কাবেলের তিনটি ঘরসহ দুটি গরু ও ১০টি ছাগল, ফজল হকের দুটি ঘর এবং রশিদের দুটি ঘর ও ১০টি ছাগল অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ফজল হক বলেন, ‘মিজানুর, কাবেল, রশিদসহ আমার ৯টি ঘর, ২০টি ছাগলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হওয়া মিজানুরের বসতবাড়ির কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই। আগুনে পুড়ে সর্বস্ব হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমরা ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানালেও যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় গাড়ি উপজেলার খাজার ঘাট পর্যন্ত এসে ঘুরে যায়।’
রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে এলাহী বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।’
এদিকে মাদারীপুরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ১৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। গতকাল শুক্রবার ভোরে জেলা শহরের পুরান বাজারে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে সৌরভ হার্ডওয়্যার নামে একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মাদারীপুর, কালকিনি, খালিয়া ও টেকেরহাট ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর মধ্যেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় কাপড়, গার্মেন্টস, কসমেটিকসের অন্তত ১৯টি দোকান।
এদিকে অগ্নিকান্ডের খবর জানতে পেরে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান, জামায়াতের জেলা আমির মাওলানা মোখলেসুর রহমান, পৌর আমির ডাক্তার আলমগীর হোসাইন, পৌর নায়েবে আমির আব্দুর রহিম মোল্লা।
মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, বাণিজ্যিক এলাকায় পানি সরবরাহ করতে দেরি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।