মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক ঘোষণার পর টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। ট্রাম্পের ঘোষণার একদিন পরই ২০৮ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৫ লাখ কোটি টাকা) ক্ষতি হয়েছে বিলিয়নেয়ারদের। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্সে ইতিহাসের চতুর্থ বৃহত্তম একদিনের পতন দেখেছে বিশ্ববাসী যা, কোভিড মহামারীর পর সর্বোচ্চ।
যেসব বিলিয়নিয়ার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই আমেরিকার। এমন অবিশ্বাস্য ক্ষতির ফলে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের শত শত বিলিয়ন ডলার হাওয়া হয়ে গেল। বাস্তবে ইলন মাস্কের মতো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদেরও রেহাই পাননি।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্ক আরোপের ফলে বৃহস্পতিবার বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ ধনীর সম্মিলিত সম্পদ ২০৮ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে।
১৩ বছর আগে ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ারের ট্র্যাকিং শুরুর পর থেকে ২০৮ বিলিয়ন ডলারের সম্মিলিত সম্পদ কমা একদিনে চতুর্থ সর্বোচ্চ এবং মহামারীর পর সবচেয়ে খারাপ।
এতে মার্কিন ধনকুবেররা সবচেয়ে বেশি সম্পদ হারিয়েছেন, শীর্ষ ১০ ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির মধ্যে নয়জনই আমেরিকার। ব্লুমবার্গের সম্পদ সূচকে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি মানুষের সম্পদের পতন হয়েছে, গড়ে ৩.৩ শতাংশ পতন হয়েছে।
এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বের ৫০০ জন ধনী ব্যক্তি হারিয়েছেন এ সম্পদ। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বেশি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আছেন ফেসবুক এবং মেটার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তার সম্পদের পরিমাণ ১৭.৯ বিলিয়ন ডলার কমেছে। যা তার মোট সম্পদের প্রায় ৯ শতাংশ। এই তালিকায় আছে আরও বেশ কয়েকটি বড় বড় নাম। অ্যামাজনের জেফ বেজোসের ক্ষতি ১৫.৯ বিলিয়ন ডলার, বার্নার্ড আরনোর ক্ষতি ৬ বিলিয়ন ডলার, টোবি লুটকে ও আর্নেস্ট গার্সিয়ার ক্ষতি ১.৪–১.৫ বিলিয়ন ডলার। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সরকারের উপদেষ্টা ইলন মাস্কের লোকসান হয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার।
অন্যান্য মার্কিন বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে যাদের সম্পদ কমেছে তারা হলেন— মাইকেল ডেল (৯.৫৩ বিলিয়ন ডলার), ল্যারি এলিসন (৮.১ বিলিয়ন ডলার), জেনসেন হুয়াং (৭.৩৬ বিলিয়ন ডলার), ল্যারি পেজ (৪.৭৯ বিলিয়ন ডলার), সের্গেই ব্রিন (৪.৪৬ বিলিয়ন ডলার) এবং টমাস পিটারফি (৪.০৬ বিলিয়ন ডলার)।