সাফের নির্বাচনে চোখ সালাউদ্দিনের

গত শুক্রবারই বিশেষ সাধারণ সভায় গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচনে বয়সের সীমা তুলে দেয় দক্ষিণ এশিয়া ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)। ওই সংবাদের পরই ধারণা করা হচ্ছিলো আরও একবার সাফের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে পারেন সংগঠনটির বর্তমান ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। সাফের সভা শেষে আজ শনিবার শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরে একটি গণমাধ্যমকে এবার তিনি নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য।

২০২৬ সালে সালাউদ্দিনের বর্তমান মেয়াদ ফুরোবে। পরের নির্বাচনে অংশ নিলে সেটি হবে সাফে তার পঞ্চম নির্বাচন। এই নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘আমি যখন সাফের সভাপতি হই, সে সময় টুর্নামেন্ট কম ছিল। এখন প্রতি বছরে অনেক টুর্নামেন্ট হচ্ছে।  সাফের সিনিয়র আসরটি হোম অর অ্যাওয়ে ভিত্তিক করতে যাচ্ছি। জুনেও এটা প্রথমবার হতে পারে বলে সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সাফে ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ হবে। আমাদের হাতে স্পনসর রয়েছে। সাফের সব দেশ আমাকে নতুন মেয়াদে সভাপতি হতে সমর্থন দিয়েছে। এএফসি সভাপতিও বলেছেন কাজগুলো সম্পন্ন করে যেতে, আরেক মেয়াদে থাকতে। এবার বাফুফেতে থাকা হয়নি। তবে সাফে ২০২৬ সালে নতুন মেয়াদে নির্বাচন করবো।’

২০০৮ সালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি হওয়ার পর টানা চার মেয়াদে এই পদে ছিলেন কাজী সালাউদ্দিন। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দেশের ক্ষমতা কাঠামো বদলে গেলে পঞ্চম মেয়াদে বাফুফেতে আর নির্বাচন করা হয়নি তার। তবে বাফুফেতে না থাকলেও ২০০৯ সাল শুরু করে থেকে সাফের প্রেসিডেন্ট পদটিতে এখনো বহাল আছেন দেশের ফুটবলের একসময়ের বড় তারকা। অবশ্য আরেকটি বাধা রয়ে গেছে তার সামনে- সেটি হচ্ছে একই সংগঠকের টানা নির্বাচন করতে না পারার বাধ্যবাধকতা। তবে এ নিয়মটিতেও পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে বলে জানান সালাউদ্দিন, ‘বয়সসীমা উঠে গেছে। এখন টানা কয়েকবার নির্বাচনে বাধাও থাকবে না। সামনের সাফের সভাতে এটা পাস হবে। এমন অবস্থায় আমি ২০২৬ সালে পঞ্চম মেয়াদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সাফে টানা পঞ্চমবার নির্বাচন করতে এবার সালাউদ্দিনের প্রয়োজন বাফুফের সমর্থন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত বাফুফে থেকে আমার প্রতি সমর্থন রয়েছে। অন্য কেউ দাঁড়াবে বলে শুনিনি। তাই আমি আবারও নির্বাচন করবো। আশা আছে, বাফুফের সমর্থন পাবো কোনও সমস্যা হবে না। আর সাফের অন্যদেশগুলো আমাকে সমর্থন দিয়ে রেখেছে। যদি অন্য দেশগুলো সমর্থন না দিতো তাহলে তো বয়সসীমা প্রত্যাহার হতো না।’

ডাকসাইটে ফুটবলার হলেও প্রশাসক হিসেবে বাফুফে সভাপতি পদে থেকে কাঙ্খিত উন্নতির ঢেউ তিনি আনতে পারেননি দেশের ফুটবলে। লম্বা সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে বারংবার বিতর্কিত হয়েছেন। অন্য দেশের সমর্থন পেলেও বদলে যাওয়া বাফুফে পর্ষদ সালাউদ্দিনের পাশে থাকবেন কি না সেটি সময়ই বলে দেবে।