সোহান একজন সৃজনশীল কনটেন্ট ক্রিয়েটর

কখনো গহিন অরণ্যে, কখনো-বা লোকালয়ে; কখনো পাহাড়ের চূড়ায়, কখনো-বা নদীর পাদদেশে; টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া; কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর কে সোহান অনবরত ছুটি চলেছেন বাংলাদেশের পথে-প্রান্তরে, ফুটিয়ে তুলছেন বাংলাদেশের ঐতিহ্য, স্থানিক জীবন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। তার কাজের উদ্দেশ্য, বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা তো বটেই, চোখের আড়াল হওয়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও লোকশিল্পের মণিমুক্তা বাংলাদেশের মানুষের কাছেও তুলে ধরা। 

একসময় তিনি শখের বশে ফটোগ্রাফি করতেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেন। আর সুন্দর সুন্দর দৃশ্যগুলো ফ্রেমবন্দি করতেন। কিন্তু কখনো কনটেন্ট ক্রিয়েট করবেন বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর হবেন এ রকম ভাবনা তার মধ্যে ছিল না। তবে নতুন কিছু করতে চাইতেন সবসময়। সৃজনশীলতার পথে হাঁটতে হাঁটতেই নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার তরুণ আর কে সোহান এখন দেশের ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে অন্যতম। পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রোফেশনালস (বিইউপি)-এ। বিষয় ছিল গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা। সন্দেহ নেই শিক্ষাজীবনের ক্লাসরুমের শিক্ষা তাকে দারুণভাবে সাহায্য করেছে কনটেন্ট তৈরি করতে। সাংবাদিকতার সততা রক্ষা করেই তিনি তার ভিডিওতে তুলে ধরেন বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেন। এর বাইরে ট্রাভেলিং ভিডিও ও দুষ্প্রাপ্য ফুড রিভিউয়ের মাধ্যমে দেশীয় পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।

ফেসবুকে আর কে সোহানের অনুসারী তিন লাখেরও বেশি, ইনস্টাগ্রামে এক লাখ এক হাজারের বেশি আর ইউটিউবে তাকে সাবস্ক্রাইব করেছেন পঁচিশ হাজারেরও বেশি মানুষ। তার রিলস ভিডিওগুলোর দৈর্ঘ্য এক থেকে দেড় মিনিট। এরমধ্যেই তিনি ভিডিওর বিষয়বস্তু বিশদভাবে তুলে ধরেন। আর তাতেই পান মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ। তবে এসব ভিডিও ধারণ ও পরিবেশন করতে কখনো কখনো ৫ থেকে ৭ দিন সময় লেগে যায়। গতানুগতিক ধারার বাইরের একজন সৃজনশীল কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সোহান সবসময় তার ভিডিওর বিষয় ও পরিবেশনার গুণগত মান বজায় রাখার চেষ্টা করেন। এজন্য ব্যবহার করেন ডিএসএলআর ক্যামেরা, ড্রোন, মোবাইলসহ বিভিন্ন ডিভাইস। আর এসব তিনি তার তৈরি করা কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার ফলে যে অর্থ পেয়েছেন তা থেকেই পেয়েছেন।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সশরীরে রাজপথে থেকে একের পর এক কনটেন্ট তৈরি করে ছাত্রদের আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। বন্যাকবলিত নোয়াখালী ও ফেনীর করুণ চিত্র তুলে ধরে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। সোহান ইউএনডিপির কমিউনিকেশনস টিম ও বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগের ‘এ টু আই’ কমিউনিকেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। এছাড়াও অনলাইন লার্নিং প্লাটফর্ম ‘শিখো’-এর সঙ্গেও সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন।

আর কে সোহান নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের উদ্দেশ্যে বলেন, স্রোতে গা না ভাসিয়ে মৌলিক কনটেন্ট ক্রিয়েট করলে আজ না হোক কাল আপনার মূল্যায়ন হবেই। যদি ভিডিও কোয়ালিটির মান ভালো হয় আর আপনার ভিডিওতে নতুনত্ব থাকে তাহলে আপনি সফল হবেনই। ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে সোহান জানান, দেশকে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য ও অনুপ্রেরণা। দেশের জন্য কাজ করতে চাই।

লেখক : শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ