বিভিন্ন দেশ থেকে করা আমদানি পণ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ১০ শতাংশ ‘বেসলাইন’ বা ‘প্রাথমিক’ শুল্ক আদায় শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার প্রথম প্রহর থেকেই নতুন এ শুল্ক নেওয়া শুরু করে দেশটির কর্মকর্তারা। ৫৭টি বড় বাণিজ্য অংশীদার রাষ্ট্রের ওপর ট্রাম্প আরও বেশি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প, যা বুধবার থেকে নেওয়া শুরু হবে। গত ২ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ শুল্কনীতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ম ভেঙে শনিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি। শুরুতেই ১০ শতাংশ শুল্কের শিকার হয়েছে যেসব দেশ তার মধ্যে রয়েছে— অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, মিশর ও সৌদি আরব।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সব মার্কিন সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও শুল্ক গুদামে পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে এই ‘ভিত্তি শুল্ক’ কার্যকর হয়।
হোগান লোভেলসের বাণিজ্য আইনজীবী এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা কেলি অ্যান শ রয়টার্সকে বলেন, এটি আমাদের জীবদ্দশায় একক বৃহত্তম বাণিজ্য পদক্ষেপ।’
শ বলেন, বিভিন্ন দেশ দরকষাকষি শুরু করায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক পণ্যেই শুল্ক বদলাবে বলে মনে করছেন তিনি। ‘এরপরও এটা বিশাল ব্যাপার। পৃথিবীর প্রত্যেক দেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যের পদ্ধতিতে এটি একটি বিরাট ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন,’ বলেছেন তিনি।
বুধবার ট্রাম্প তার নতুন শুল্ক নীতি ঘোষণার পর বিশ্বের প্রায় সব শেয়ার বাজার মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছে; শুক্রবার লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত টানা দুই দিনে এসঅ্যান্ডপি ৫০০তে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলো ৫ লাখ কোটি ডলার হারিয়েছে।
ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের বুলেটিনে জানানো হয়, শনিবার মধ্যরাতে জলপথে পণ্যবাহী জাহাজের জন্য কোনও অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। তবে, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রানজিটে আনার জন্য যেসব পণ্য ইতিমধ্যে জাহাজ বা বিমানে লোড করা হয়েছে, সেগুলোর জন্য ৫১ দিনের অতিরিক্ত সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়েছে। ১০ শতাংশ শুল্ক এড়াতে এই পণ্যগুলোকে বন্দরে পৌঁছাতে হবে ২৭ মে রাত ১২টা ১ মিনিটের মধ্যে।
শনিবার যে সময় থেকে কর্মকর্তারা ১০% ‘ভিত্তি শুল্ক’ নেওয়া শুরু করেছেন, বুধবার একই সময় থেকে তারা বড় বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ট্রাম্পের আরোপ করা ১১ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক নেওয়া শুরু করবেন।