ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করায় যাত্রী চাপ বেড়েছে পাটুরিয়া ঘাটে। ঘাট থেকে বাসে বিভিন্ন রুটে যাওয়ার পথে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। যদিও প্রসাশন থেকে অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার জন্য আগাম অনেক প্রতিশ্রুতি ও সভা-সমাবেশ করা হয়েছিল। এরপরও বাস্তবে কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, গত শুক্র ও শনিবারে পাটুরিয়া-আরিচা ঘাটে এ সম্পর্কিত অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, যানজট দূর করতে পাটুরিয়া ঘাট থেকে আধা কিলোমিটার দূরবর্তী পুরাতন ট্রাক টার্মিনাল থেকে ঢাকাগামী গাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে। সেলফি, নীলাচল, পদ্মা পরিবহন, শুভযাত্রা, স্বপ্ন পরিবহন, যোগাযোগ, যাত্রীসেবাসহ বিভিন্ন বাস এখান থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের নির্ধারিত নবীনগর-সাভার ও গাবতলীর ভাড়া ১৫০ ও ২০০ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ২০০ ও ৩০০ টাকা। যাত্রীপ্রতি ৫০-১০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
মোছাম্মৎ কাকলী নামে এক যাত্রী বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে সেলফি পরিবহনে গাবতলী থেকে পাটুরিয়া ঘাটে এসেছিলাম ২০০ টাকা ভাড়ায়। কিন্তু এক সপ্তাহ ব্যবধানে এখন ৩০০ টাকা নিচ্ছে। বাধ্য হয়েই বেশি টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে।’
রতন ব্যাপারী নামে এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘লোকাল গাড়িতে গাবতলীর ভাড়া ছিল ১৫০ টাকা। এখন ভাড়া চাচ্ছে ৩০০। না হলে গাড়ি যাবে না। বিষয়টি নিয়ে কেএফসিকে কল দিয়ে জানালে তারা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে বলে। ৯৯৯ নম্বরে কলে দিলে তারা টিএসসিকে জানাতে বলে। ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ-প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। এভাবে সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত ভাড়া রাখলে কেমনে হবে।’
যোগাযোগ পরিবহনের চালক বলেন, ‘ঢাকা থেকে খালি এসেছি। যে কারণে অতিরিক্ত ভাড়া না নিয়ে আমাদের পোষায় না। খালি আসতে হয় বলে ভাড়া সামান্য বেশি নেওয়া হয়েছে।’
সেলফি পরিবহনের চালক আরজু বলেন, ‘সাভার-নবীনগরের যাত্রী উঠিয়েছি। তাই ২০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের নির্ধারিত ভাড়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এ ব্যাপারে প্রশাসন মানা করে তবে আর বেশি ভাড়া নেব না।’
এ বিষয়ে শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন জানান, যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কথা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শনিবার ঘাটে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।