বোমা পুঁতে হত্যার চেষ্টা হয়েছে গুমের তদন্তকারীদের

আয়নাঘরে যারা তদন্ত করতে গেছেন, তাদের বোমা রেখে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা তিনটি আয়নাঘর খুঁজে পেয়েছেন ও তদন্ত করেছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

আয়নাঘরে তদন্তকালে তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের এ প্রধান কৌঁসুলি। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গুমের মামলার তদন্ত করছে। তিনটি গুমের সেন্টার আয়নাঘর আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তারা আবিষ্কার করেছেন।

টিএফআই সেলের নাম উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সেটার ভেতরে ভূগর্ভস্থ অনেকটা বলা যাবে, সেমি-ভূগর্ভস্থ সেলগুলো আবিষ্কার করেছে। যেগুলো দেয়াল তুলে বন্ধ করা হয়েছিল। সেই দেয়াল ভাঙতে হয়েছে। পুরো আবর্জনা দিয়ে সেটাকে ভরে রাখা হয়েছিল। সেগুলো সরিয়ে ক্রাইম সিনগুলো বের করতে হয়েছে।’ এ কাজ করার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, ‘সেখানে বোমা ফিট করা ছিল। সেই বোমাগুলোর সঙ্গে টাইমার সেট করা ছিল। আমাদের অ্যাপারেন্টলি (দৃশ্যত) বোঝা যায় যে, এই ইনভেস্টিগেশন যারা করতে গিয়েছে, তাদের হত্যা করারও চেষ্টা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এতসব জটিলতার মধ্য দিয়ে যে কাজগুলো এগিয়েছে, সেগুলো প্রতিদিন জনসমক্ষে আসেনি। সে কারণে অনেকেই মনে করতে পারেন যে তদন্ত কাজটুকু হয়নি। তদন্তকাজ যা হয়েছে, যেদিন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হবে সেদিন থেকে উপলব্ধি করতে পারবেন।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। নানামুখী চেষ্টা আছে এই বিচারকাজকে বন্ধ করার জন্য। যারা এরকম করবে তারা ব্যর্থ হবে। কোনোরকম স্ক্যান্ডাল ছড়িয়ে বিচারকাজের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার কোনো দুর্নীতি তারা বের করতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বারবার বলে আসছি, মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ বিষয়। আগের রেজিমে এ ট্রাইব্যুনালে প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ১৬ মাস সময় নিয়েছিল।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যা-গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলা, আশুলিয়ায় গুলি করে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর মামলা এবং চানখাঁরপুলে গণহত্যার মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে এসেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। এর মধ্যে দুটি মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ চলতি মাসেই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।’