ফিলিস্তিনে ইসরায়েলী বর্বরতার প্রতিবাদে ‘গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজা’ কর্মসূচীতে সোমবার (৭ এপ্রিল) দিনভর উত্তাল ছিল বন্দর নগরী চট্টগ্রামের রাজপথ। প্রায় অর্ধশত সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচীতে এদিন চট্টগ্রাম পরিণত হয় বিক্ষোভের শহরে। এসময় নগরীর জিইসি মোড়ে অবস্থিত ‘কেএফসি’ ও ‘পিৎজা হাট’ নামে দু’টি প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এছাড়া লালখানবাজার ও কাজির দেউড়ি এলাকাতেও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা চালায় বিক্ষুদ্ধ লোকজন।
ইসরায়েলী আগ্রাসনের প্রতিবাদে ও ফিলিস্তিনবাসীকে রক্ষার দাবিতে সোমবার (৭ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজপথে নেমে আসে বিভিন্ন সংগঠন, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন স্থানে পৃথক পৃথকভাবে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করলেও সকলের দাবি ছিল অভিন্ন। এসব কর্মসূচী থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলী গণহত্যার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি অবিলম্বে এই বর্বরতা বন্ধের দাবি জানানো হয়। সমাবেশ থেকে বক্তারা ফিলিস্তিনের মুসলমানদের এই চরম বিপদেও মুহূর্তে মুসলিম বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর নীরবতা ও নির্লিপ্ততা ভেঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে ইহুদী আগ্রাসন মোকাবেলার আহ্বান জানান। এসময় ইহুদীদের উৎপাদিত পণ্য বর্জনেরও আহ্বান জানান তারা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বিকেল চারটার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল থেকে জনতা নগরীর জিইসি মোড়ে অবস্থিত ‘কেএফসি’ ও ‘পিৎজা হাট’ নামে দু’টি রেস্টুরেন্ট লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে রেস্টুরেন্টের সামনের কাঁচ ভেঙ্গে যায়। এসময় সেখানে হোটেল জামানের ওপর কোকাকোলার একটি সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা ওয়াসার মোড়ের দিকে চলে যায়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে লালখান বাজার এলাকায় একটি মিছিল থেকে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে দেখা যায় কিছু যুবককে। এসময় ওই প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও বাইরের কাঁচ ভাংচুর হয়। বিকেল ৫টার দিকে নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকায় কয়েকটি দোকানের বাইরে রাখা কোকাকোলা ব্রান্ডের ফ্রিজ ও সাইন বোর্ড ভাঙচুর করা হয়।
খুলশী থানার ওসি মুজিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুই নম্বর গেটের দিক থেকে আসা একটি মিছিল থেকে কিছু যুবক জিইসি মোড় ও লালখানবাজারে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে এবং সাইন বোর্ড ভাঙচুর করেছে।’
এদিকে, গাজার মুসলমানদের পক্ষে জনমত তৈরির লক্ষ্যে ঘোষিত ‘নো ওয়ার্ক নো ক্লাশ’ কর্মসূচীর কারণে সোমবার (৭ এপ্রিল) পুরোপুরি বন্ধ ছিল চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্লাশ ও একাডেমিক কার্যক্রম। কর্মসূচীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে আসে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ইসরাইলী হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন শ্লোগান লেখা ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ করেন তারা। চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড়, জামালখান, চেরাগী পাহাড়, ষোলশহর, ওয়াসা মোড়, জিইসি মোড়, আগ্রাবাদ, হালিশহর, বহদ্দার হাট, মুরাদপুর, মেডিকেল কলেজ, আন্দরকিল্লা, চকবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জামালখান প্রেসক্লাবের সামনে গাজায় ইসরায়েলী হামলা বন্ধে গণস্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরা এতে অংশ নেন। নগরীর ষোলশহর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বাদে যোহর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে তারা দামপাড়া ওয়াসার মোড় ও জিইসি মোড়ে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের উদ্যোগে নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। নগরীর মুরাদপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়ার শিক্ষার্থীরা।
গাজায় ইসরায়েলী গণহত্যার প্রতিবাদে বিকেল ৫টায় আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ বিক্ষোভ সমাবেশ করে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।