দেশের অন্যতম শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী জেলা মুন্সীগঞ্জের ৬ উপজেলায়ই গত মাসের মাঝামাঝি থেকে আলু উত্তোলন শুরু হয়। উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম থাকায় কৃষকরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। এরই মধ্যে আলু আবাদে কম কিংবা প্রচলিত পরিমাণের অর্ধেক সার ব্যবহার করে আশানুরূপ ফলন পাওয়ার সুখবর পাওয়া গেছে। এ মৌসুমে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চালানো পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণে কম সার প্রয়োগের পরও আলুর আশানুরূপ ফলন মিলেছে। এতে এক বছরেই এ জেলায় কম সার ব্যবহার করে আলু উৎপাদনে বাঁচবে কমপক্ষে ২৫০ কোটি টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৩৪ হাজার ৭৫৮ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা সদর, টঙ্গীবাড়ি, লৌহজং, সিরাজদীখান, শ্রীনগর ও গজারিয়া উপজেলার ৩০০ কৃষকের জমির মাটি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কৃষি বিভাগ ১৫০ কৃষকের জমিতে ৫ শতাংশ করে প্রদর্শনীর প্লট তৈরি করে। আর প্রদর্শনীর ওই সব প্লটের জমিতে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি মিলিয়ে শতাংশপ্রতি সার ব্যবহার করা হয়েছে ৩ থেকে ৬ কেজি। এরমধ্যে বেশিরভাগ প্লটেই ৫ কেজি করে সার ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ জেলার অন্য কৃষকরা আলু আবাদের জমিতে শতাংশপ্রতি ১২ থেকে ১৫ কেজি সার ব্যবহার করেন। আলু উত্তোলন শেষে দেখা গেছে কম সার ব্যবহার করা প্রদর্শনীর প্লটেই উৎপাদন ভালো হয়েছে। আর বেশি সার ব্যবহার করে তুলনামূলক বেশি আলু উৎপাদনের চিত্র পাওয়া যায়নি। কম ও বেশি সার ব্যবহারে আলু উৎপাদন অনেকটা সমান সমানই।
জেলা সদরের সুখবাসরপুর গ্রামের কৃষক মো. ইব্রাহিম ৮০ শতাংশ জমিতে আলু আবাদ করেছেন। তিনি জানান, তার ৫ শতাংশ প্রদর্শনীর জমিতে শতাংশপ্রতি ৬ কেজি করে সার ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি বাকি জমিতে শতাংশপ্রতি সার ব্যবহার করেন ১২ কেজি করে। তিনি জানান, কম সার ব্যবহার করা প্রদর্শনীর প্লটে শতাংশপ্রতি সাড়ে ৩ মণ আলু পেয়েছেন। পক্ষান্তরে বেশি সার ব্যবহার করা জমি থেকে শতাংশপ্রতি আলু পেয়েছেন সোয়া ৩ মণ।
সদর উপজেলার বাংলাবাজার গ্রামের কৃষক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি যখন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রদর্শনী প্লটে কম সার ব্যবহারে আলু আবাদ করি, তখন অন্যান্য কৃষক হাসাহাসি করেছে। কিন্তু কম সার ব্যবহারে ভালো ফলন পাওয়ায় এখন সেইসব কৃষক আমার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে তারাও কম সার ব্যবহার করতে আমার পরামর্শ নিতে চাচ্ছেন।’ তিনি জানান, কম ও বেশি সার ব্যবহার করা জমি থেকে যে আলু পেয়েছেন, তার পরিমাণে খুব একটা তারতম্য নেই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত বলেন, ‘প্রদর্শনীর প্লটে শতাংশপ্রতি ৩ থেকে ৬ কেজি করে সার ব্যবহার করে পরীক্ষা চালিয়েছি।’ আর অন্যান্য
কৃষক সেখানে শতাংশপ্রতি সার ব্যবহার করেছেন ১২ থেকে ১৫ কেজি করে। কম সার ও বেশি সার ব্যবহার করা জমি থেকে পাওয়া আলুর পরিমাণে খুব একটা তফাৎ নেই। কাজেই কম সার ব্যবহার করেও আলুর আশানুরূপ ফলন পাওয়া গেছে। তিনি দাবি করেন, এভাবে কম সার ব্যবহার করে আলু আবাদ করা গেলে এক বছরে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলু উৎপাদনকারী এ জেলার কৃষকদের অন্তত ২৫০ কোটি টাকা বেঁচে যাবে।