বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক

আইনের বিধান চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশে সন্নিবেশিত বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্কের সাজাসংক্রান্ত বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার আইনজীবী মো. রাশিদুল হাসান এবং মানবাধিকার সংগঠন ‘এইড ফর ম্যান ফাউন্ডেশনে’র পক্ষ থেকে বিধানটি চ্যালেঞ্জ করে এ রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

আবেদনে আইনের এ বিধানকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অবৈধ ঘোষণার আরজি জানানো হয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানান রিটকারীদের আইনজীবী। তিনি বলেন, কার্যতালিকায় এলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হবে।

গত ২৫ মার্চ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনের সংশোধনী এনে অধ্যাদেশের গেজেট জারি করে সরকার। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫-এর ধারা ৯ (ক) এর পর নতুন ধারা ৯ (খ) সন্নিবেশিত করা হয়। এ ধারার অর্থ হলো, যদি কোনো ব্যক্তি দৈহিক বলপ্রয়োগ ব্যতীত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ষোল বছরের বেশি বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে যৌনকর্ম করেন এবং যদি উক্ত ঘটনার সময় উক্ত ব্যক্তির সহিত উক্ত নারীর আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বছর সশ্রম কারাদ-ে দ-নীয় হবেন। এ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থদ-ে দ-নীয় হবেন। তবে, সংশোধনী নিয়ে আইনজীবী ও নারী অধিকার কর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, ‘প্রাপ্ত দুজন পুরুষ ও নারী সজ্ঞানেই সম্পর্কে জড়ান। এখন কোনো কারণে সম্পর্কের অবনতি হলে বিয়ের প্রলোভনে যৌনসম্পর্কের অপরাধে শুধু পুরুষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দেওয়ার বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও ন্যায় বিচারের পরিপন্থী।’ তিনি আরও বলেন, ‘আইনে প্রলোভন শব্দটি নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। প্রলোভন মানে কোনো কিছুর লোভ দেখানো। আইনের এ শব্দচয়নে নারীদের লোভী হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা নারীদের জন্য চরম অবমাননাকর। এজন্য এ বিধানকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।’