চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের বাকি শুধু আর্সেনালকে হারানো

চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে একসময় বারবার হোঁচট খাওয়া এক ক্লাবের নাম ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ২০০৫ থেকে ২০১০—এই ছয় মৌসুমে টানা ছয়বার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ছয়টি ভিন্ন দলের বিপক্ষে বারবার ব্যর্থতা—জুভেন্তাস, আর্সেনাল, বায়ার্ন মিউনিখ, রোমা, লিভারপুল ও অলিম্পিক লিওঁ; একের পর এক ব্যর্থতার সাক্ষী হয়ে ছিল সান্তিয়াগো বার্নাব্যু।

কিন্তু সময় বদলেছে। ইউরোপে অন্ধকার অধ্যায়ের ইতি টেনে লস ব্লাঙ্কোস এখন চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্লাব। এই পথে তারা একে একে প্রতিশোধ নিয়েছে সবার সঙ্গে—ছয় প্রতিপক্ষের পাঁচটির বিপক্ষেই সফল প্রতিশোধ। বাকি শুধু ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল।

জুভেন্তাস: কার্ডিফের ফাইনালে জ্বললো প্রতিশোধের আগুন

২০০৫ সালে প্রথম লেগে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয় লেগে জালায়েতার গোলের কারণে বিদায় নিতে হয়েছিল মাদ্রিদকে। এরপর ২০১৫ সালের সেমিফাইনালেও দুঃখ বাড়ায় তুরিনের দল। তবে ২০১৭ সালের ফাইনালে কার্ডিফে ৪-১ গোলের জয়ে সব হিসাব চুকায় রিয়াল। পরের মৌসুমেও কোয়ার্টার ফাইনালে রোনালদোর শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে আবার জুভেন্টাসের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয় তারা।

বায়ার্ন: প্রতিপক্ষ নয়, যেন পুরনো খেলার পুতুল

২০০৭ সালে মাকাইয়ের সাত সেকেন্ডের গোলের ধাক্কায় বিদায় নেয় রিয়াল। কিন্তু এরপর বায়ার্ন যেন রিয়ালের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। ২০১৪ সালের ৪-০ গোলের ঐতিহাসিক জয় থেকে শুরু করে ২০১৭, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেমিফাইনাল—সব জায়গাতেই বাভারিয়ানদের হারিয়ে এগিয়ে গেছে লস ব্লাঙ্কোস।

রোমা: আট বছর অপেক্ষার পর ‘লা উন্দেসিমা’র পথে প্রতিশোধ

২০০৮ সালে রোমার কাছে দুই লেগেই হেরে বিদায় নেওয়া রিয়াল আট বছর পর ২০১৬ সালে জিদানের অধীনে ফিরিয়ে দেয় সেই ব্যথা—দুই লেগেই ২-০ ব্যবধানে জয়। এরপর গ্রুপ পর্বেও দাপট দেখিয়েছে মাদ্রিদ।

লিভারপুল: রেডদের কাঁদিয়ে দুই বার...

২০০৯ সালে ৪-০ গোলে লিভারপুলের হাতে বিধ্বস্ত হয়েছিল রিয়াল। তবে প্রতিশোধ এসেছে রাজকীয় কায়দায়—২০১৮ ও ২০২২ সালের ফাইনালে দুই বার চ্যাম্পিয়ন হয় মাদ্রিদ, প্রতিবার লিভারপুলকে হারিয়ে। এছাড়া ২০২১ ও ২০২৩ সালে নকআউটে বিদায় দেয় ইংলিশ দলটিকে।

লিওঁ: বেনজেমার পথ দেখানো

২০০৯-১০ মৌসুমে বেনজেমার নতুন ক্লাব রিয়াল লিওঁর কাছে ছিটকে পড়ে। কিন্তু ঠিক এক মৌসুম পরেই বেনজেমার গোলেই শুরু হয় পাল্টা আক্রমণ। ১-১ ড্র করে ফ্রান্সে, ফিরতি লেগে ৩-০ জয় নিয়ে এগিয়ে যায় মাদ্রিদ। এরপরও লিওঁর বিপক্ষে জয় অব্যাহত রাখে তারা।

আর্সেনাল: হেনরির গোল এখনো স্মরণে, এবার কি পাল্টা সময়?

২০০৬ সালে শেষ ষোলোতে তিয়েরি হেনরির দুর্দান্ত এক গোল রিয়ালের হৃদয়ে শোকের ছাপ এঁকে দিয়েছিল। বার্নাবেউয়ে ১-০ জয়ের পর হাইবারিতে গোলশূন্য ড্র করে কোয়ার্টারে ওঠে গানাররা। সেই থেকে আর কখনো দেখা হয়নি দুই দলের।

তবে এবার মিলছে সুযোগ। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে এবার এমিরেটসে পা রাখবে রিয়াল। যদি বার্নাব্যুয়ে ফিরতি লেগে জিততে পারে, তাহলে এক যুগের অপেক্ষার পর সেই একমাত্র বকেয়া প্রতিশোধটাও শেষ হবে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে নিজের সবচেয়ে হতাশাজনক অধ্যায়কে পুরোপুরি মুছে দিতে এবার শুধু আর্সেনালকে হারানোই বাকি রিয়াল মাদ্রিদের। ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে ফেলার এমন সুযোগ আবার কবে আসবে, কে জানে!