চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই দেশে কোটা সংস্কারের আন্দোলন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত তা সরকার পতন আন্দোলনে রূপ নেয়। ফলে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- ছিল অনেকটাই স্থবির। যার প্রভাব পড়েছিল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ফলে অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতির চাকা অনেকটাই সচল হয়ে ওঠে। যার প্রতিফলন দেখা গেছে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাবে।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ অক্টোবর-ডিসেম্বর ওই তিন মাসের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, এ সময়ে দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
এর আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে শ্লথগতির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ব্যাপকভাবে টান পড়েছিল। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৯৬ শতাংশে নেমেছিল। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় টানা তিন প্রান্তিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পর অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে তা আবার বাড়ল।
বিবিএসের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এবার তা হয়েছে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা। গত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর চতুর্থ প্রান্তিকে তা দাঁড়ায় ২ দশমিক ১৪ শতাংশে।
কৃষি, শিল্প ও সেবা এই তিন খাত দিয়ে জিডিপি প্রকাশ করা হয়। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে কৃষি খাতে। এই খাতের প্রবৃদ্ধি মাত্র ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। এরপর সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং শিল্প খাতে ৭ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বিবিএসের তথ্য অনুসারে, অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে দেশের ভেতরে স্থির মূল্যে ৮ লাখ ৮৬ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য ও সেবা উৎপাদন হয়েছে। আগের প্রান্তিকে যা ছিল ৮ লাখ ৪ হাজার ৯৪২ কোটি টাকার সমান। সে হিসাবে অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের চেয়ে ৮২ হাজার কোটি টাকার বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদন হয়েছে।