যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উচ্চহারের যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, চীন বাদে বাকিদের ক্ষেত্রে তা তিন মাসের জন্য স্থগিত করায় তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস অফিসের ফেসবুক পেজে এক বার্তায় তিনি বলেন, বাড়তি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করার অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ, মাননীয় প্রেসিডেন্ট। আমরা আপনার বাণিজ্য এজেন্ডাকে সমর্থন জানাতে আপনার প্রশাসনের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।
শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে পুরো বিশ্বকে অস্থির করে তোলার এক সপ্তাহের মাথায় গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে নতুন এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, বিশ্বের বাজারগুলোর প্রতি শ্রদ্ধার যে ঘাটতি চীন দেখিয়েছে, তার ভিত্তিতে আমি যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ ধার্য করছি। এটা অবিলম্বে কার্যকর হবে। আর অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে যে বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তা তিন মাসের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এ সময় দেশগুলোর পণ্যে ন্যূনতম ১০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপিত হবে।
এর আগে গত ২ এপ্রিল ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বাংলাদেশের পণ্যে বাড়তি ৩৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়। এতদিন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ, যা বেড়ে গড়ে ৫২ শতাংশে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে সম্পূরক শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বড় ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। এ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে গত শনিবার সরকারের উপদেষ্টা, বিশেষজ্ঞসহ অংশীজনদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। পরে সম্পূরক শুল্ক পুনর্বিবেচনা করতে ট্রাম্পকে সোমবার তিনি চিঠি পাঠান। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তুলে ধরে শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত তিন মাস স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হয় সেখানে।
প্রধান উপদেষ্টা চিঠিতে বলেন, ...চলমান পরিকল্পিত কাজগুলো আমরা পরবর্তী প্রান্তিকের মধ্যে শেষ করব। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সূচারুভাবে শেষ করতে দয়া করে প্রয়োজনীয় সময় আমাদের দিন।
বাংলাদেশের মতো অনেক দেশই শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেনদরবার শুরু করে। কোনো কোনো দেশ মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক হার শূন্যের ঘরে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়। সে বিষয়টি তুলে ধরে ট্রাম্প তার সোশ্যাল পোস্টে লেখেন, ৭৫টির বেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এসব প্রতিনিধির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ, অর্থ বিভাগ ও ইউএসটিআর (যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি) রয়েছে। দেশগুলো বাণিজ্য, বাণিজ্য বাধা, শুল্ক, মুদ্রা কারসাজি ও অশুল্ক বাধাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে চীন বাদে অন্য সব দেশের ওপর আরোপিত বাড়তি শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, আমি ৯০ দিনের জন্য সম্পূরক শুল্ক স্থগিত অনুমোদন করেছি। একই সঙ্গে এ সময়ের জন্য সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। এটাও অবিলম্বে কার্যকর হবে।