চট্টগ্রাম বারের ৭৬৬ আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত, বাতিল ৭১ 

নিয়মিত সমিতির চাঁদা, চেম্বারের বিদ্যুৎ বিল ও ভাড়া পরিশোধ না করায় ৮৬৭ জন আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত, ৭১ জনের বাতিল এবং ৮৩টি চেম্বারের বরাদ্দ বাতিল করেছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক একেএম মকবুল কাদের চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক কমিটির বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমিতির পক্ষ থেকে ৯ (১), ৯ (২), এবং ৯ (৩) ধারা অনুযায়ী নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ না করায়, দীর্ঘদিন চেম্বারের বিদ্যুৎ বিল ও ভাড়া পরিশোধ না করাসহ বিভিন্ন কারণে ৮৬৭ আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৮৬৭ জনের মধ্যে ৬০৪ জন আইনজীবী যারা চেম্বারের বকেয়া ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল না দেয়ায় সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে। তারা আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার পাবে না। এছাড়া ১৪১ জনকে নোটিশ দেওয়া হলে ৪০ জন নন প্র্যাকটিশনার নিজ থেকে সদস্য পদ স্থগিত করেন। কারণ তারা অন্য জায়গায় চাকরি করছেন। বারের আইন অনুযায়ী একজন আইনজীবী দুই জায়গায় চাকরি করতে পারেন না।

বাকি ১০১ জন এর মধ্যে ৩০ জন আইনজীবী অন্য কোথাও চাকরি করেন না বলে জানালে সেটা আমরা তদন্ত করে সত্যতা নিশ্চিত হয়ে তাদের সদস্য পদ বহাল করেছি। ৭১ জনকে বার থেকে চিঠি পাঠানো হলে তারা সেটি সংগ্রহ করেননি। আবার কেউ কেউ জবাব না দেওয়ায় আমরা সাধারণ সভায় তাদের সদস্যপদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবং ১২২ জন চিঠির জবাব দিয়েছে কিন্তু তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। তবে যাদের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে তারা আবার পুনঃআবেদন করে সদস্য পদের ফি এবং বকেয়া জমা দিয়ে সদস্য পদ ফেরত পেতে পারেন তবে পূর্বের চাকরি ছেড়ে আসতে হবে।

তিনি আরও জানান, সমিতির ৯ (১), ৯ (২), এবং ৯ (৩) ধারায় অপেশাদারদের ১৭টি, চেম্বারের বিদ্যুৎ বিল, ভাড়া পরিশোধ না করায় ১৬টি, সমিতির চাঁদা পরিশোধ না করায় ২৩টি, চৌকিবারে সদস্যপদ রেখে সমিতিতেও সদস্য হয়ে চেম্বার বরাদ্দ ও এমবি ফান্ডের সুবিধা গ্রহণের কারণে ২৭টিসহ মোট ৮৩টি চেম্বার বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৭ হাজার ৫২১ জন। আগামী ১৬ এপ্রিল সমিতির সাধারণ নির্বাচন। সদস্যপদ বাতিল হওয়ায় তারা এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না।

মকবুল কাদের চৌধুরী জানান, ৯ এপ্রিল তাদের সদস্যপদ বাতিল হলেও তারা ডিফল্টার থাকায় সমিতির গঠনতন্ত্র মোতাবেক পূর্বে ঘোষিত সমিতির ভোটার তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

সূত্র জানায়, চাঁদা পরিশোধের নোটিশ দেওয়ার পর ৫৭ জন সদস্য তাদের চাঁদা পরিশোধ করেছেন। অবশিষ্ট ৬০৮ জন চাঁদা পরিশোধ করেননি। অন্যদিকে, ২৮ জন সদস্য চেম্বার ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দিয়েছেন। সমিতির চাঁদা ও চেম্বার ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল যারা পরিশোধ করেননি তাদের সদস্যপদ স্থগিত ও চেম্বার বরাদ্দ বাতিলের বিষয়ে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।