ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার নতুন এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুদিন আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সরাসরি আলোচনার পরিকল্পনার কথা জানানোর পর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। ট্রেজারি বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সহায়তা করার জন্য দেশটির পাঁচটি সংস্থা ও একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। নিষিদ্ধ ঘোষিত এ গোষ্ঠীগুলো এর আগেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দুটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছে ট্রেজারি বিভাগ। ওই দুটি প্রতিষ্ঠান হলো ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং এর অধীন ইরান সেন্ট্রিফিউজ টেকনোলজি কোম্পানি।
এ ছাড়া বিদেশ থেকে পারমাণবিক যন্ত্রাংশ সংগ্রহে সহায়তাকারী মাজিদ মোসাল্লাত নামক ব্যক্তিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে। তিনি অ্যাটবিন ইস্তা টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলে জানা গেছে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের সবাই ইরানের পরমাণু প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বলে জানিয়েছেন ট্রেজারিমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। বুধবার এ-সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য ইরানের সরকারের বেপরোয়া প্রচেষ্টা শুধু যুক্তরাষ্ট্রেরই নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। তাই ইরান যেন পরমাণু প্রকল্প অগ্রসর করার মাধ্যমে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় বিঘœ সৃষ্টি করে না পারে, সেজন্য সবসময় যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করে যাবে।
ট্রাম্প এর আগে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে চান। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আলোচনা হবে পরোক্ষ এবং তা ওমানে অনুষ্ঠিত হবে। নিষেধাজ্ঞা জারির পর প্রতিক্রিয়া জানতে ইরানের জাতিসংঘ মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যদি এ আলোচনা সফল না হয়, সে ক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে বড় মাত্রার বিপদে পড়বে ইরান। আগামীকাল শনিবার ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের বৈঠকের কথা রয়েছে।