অনেক সময় পরিকল্পনা করেও আমরা অলসতা কাটিয়ে উঠতে পারি না। ফলে সফলতা রয়ে যায় অধরা। কিছু ছোট ছোট কৌশল অবলম্বন করলেই এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়। লিখেছেন লিজা হক
ধারাবাহিকতা রক্ষা
সফলতাকে একটি গন্তব্য না ভেবে একটি যাত্রা হিসেবে দেখ। লক্ষ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে ফেল। প্রতিদিনের জন্য আলাদা লক্ষ্য নির্ধারণ কর। দিনের লক্ষ্যমাত্রা দিনের স্পর্শ কর। এর ফলে ধারাবাহিকতা রক্ষা সহজ হবে।প্রতিদিন একটু একটু করে লক্ষ্যের পানেএগিয়ে যাবে।
লক্ষ্যভারে ভারাক্রান্ত না হতে চাইলে
এটা সত্য যে, লক্ষ্য নির্ধারণের সময় বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে অনেকেই লক্ষ্যের ভারে হতোদ্যম হয়ে পড়ে। অলসতার শুরু এখান থেকেই। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে না ভেবে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাব এবং তাকে সফল করতে যে কাজগুলো করা দরকার তা কর।
প্রেরণার জন্য অপেক্ষা নয়
অনেকেই ইচ্ছার ওপর ভীষণ নির্ভর করে। কিন্তু সবসময় কাজের ইচ্ছা না-ই থাকতে পারে। ইচ্ছার ওপর নির্ভর করলে কাজে ধারাবাহিকতা থাকে না। কাজের একটি তালিকা বা রুটিন করে ফেল। ইচ্ছা থাক বা না থাক সময় হলে কাজটিকরতে শুরু কর।
একটি অসম্পূর্ণ রেখে অন্য কাজ নয়
অনেক সময় একটি কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই অনেকেই অন্য কাজে মনোযোগী হয়ে পড়ে। সাধারণত প্রথম অপছন্দনীয় না হলে বা দ্বিতীয় কাজ বেশি পছন্দ হলে এই ঘটনা ঘটে। কিন্তু সফলতার জন্য সব কাজই যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ তাই একটি অসম্পূর্ণ রেখে আরেকটি বেশি ভালো করে লাভ নেই। সফলতা রয়ে যাবে অধরা।
সময় নয়, ফলাফল বিবেচনা কর
অনেকেই কঠোর পরিশ্রম বলতে কত ঘণ্টা কাজ করল সেটি হিসাব করে। কিন্তু ‘ডিপ ওয়ার্ক’বলতে বোঝায়, গভীর মনোযোগের সঙ্গে কাজ। ফলে অল্প সময়ে বেশি কাজ করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে সময় দ্বারা কাজকে পরিমাপ করা শুরু করলে সময়টি পার করাই লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। সে জন্য কাজের সময় নয়, ফলাফল বিবেচনায় নাও।
অতিপ্রয়োজনীয় কাজের সময় বের কর
অনেক সময় এমন হয় যে, কাজের চাপে অতি প্রয়োজনীয় কাজ বিশেষ করে নিজের যতœ নেওয়ার ব্যাপারে অনেকের উন্নাসিকতা দেখা যায়। যার প্রভাব পড়ে পরবর্তী সময়ে। যেমন সময়ের অভাবে জাংক ফুড খাওয়া, শরীরচর্চা না করা প্রভৃতি। এর ফলে অসুস্থ হয়ে যায় এবং কাজের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়। এ জন্য অতি প্রয়োজনীয় এসব কাজের জন্য সময় বের করতে হবে।