বাণিজ্যযুদ্ধে ভারতকে পাশে চায় চীন

চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ১২৫ শতাংশ শুল্কের জেরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি পণ্যের ওপর ৮৪ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে বেইজিং, যা গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্যযুদ্ধে ভারতকে নিজেদের পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন। ভারতে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

বার্তায় ইউ জিং বলেন, চীনের অর্থনীতি ধারাবাহিক ও ইতিবাচকভাবে বড় হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন ধরে চীনের শিল্প খাতের উৎপাদন পুরোপুরি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক। এ ছাড়া চীন অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এবং বহুপাক্ষিকতাবাদেরও দৃঢ় সমর্থক। বৈশ্বিক অর্থনীতির যে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, তার ৩০ শতাংশই আসে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা নির্দেশিত বহুপাক্ষিক বাণিজ্যের মাধ্যমে। তিনি আরও বলেন, চীন এবং ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পরিপূরকতা এবং পারস্পরিক লাভেরও ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের এই অপমানজনক শুল্কনীতি, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোকে উন্নত হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। তার বিরুদ্ধে বিশ্বের দুই বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ চীন এবং ভারত একাট্টা হতে পারে এবং একসঙ্গে যাবতীয় বাধা অতিক্রম করতে পারে।

গত ২ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে এমন সব দেশের ওপর বর্ধিত রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। সে সময় চীনের ৩৪ শতাংশ ও ভারতের ওপর ২৬ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। শুল্ক আরোপের পর ভারত নিশ্চুপ থাকলেও পাল্টা পদক্ষেপ তার পরের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৪ শতাংশে উন্নীত করে চীন। এতে ব্যাপক ক্ষুব্ধ ট্রাম্প গত ৮ এপ্রিল চীনের ওপর ধার্যকৃত শুল্ক আরও ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেন। পরের দিন চীনও মার্কিন পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করে।

এদিকে, পুরো বিশ্বকে প্রায় সপ্তাহখানেক তটস্থ রাখার পর বুধবার অধিকাংশ দেশের ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক আগামী ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্কের বিষয়ে তার অবস্থানে কোনো নড়চড় হয়নি। গত মাসের শেষ নাগাদ আকস্মিকভাবে গাড়ি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তার দাবি, এই পদক্ষেপ মার্কিন গাড়ি শিল্পে ‘অসাধারণ প্রবৃদ্ধি’ নিয়ে আসবে এবং দেশটিতে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়াবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য গাড়ি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। গাড়ির দাম বাড়তে পারে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।

গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশে শুল্ক স্থগিত না করায় কড়া সমালোচনা করেছেন ডেট্রয়েট ও মিশিগানভিত্তিক গাড়ি ব্যবসায়ীরা। ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডেট্রয়েট রিজিওনাল চেম্বার এবং মিশিগানঅটো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পের জটিল আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য এই নীতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। রিজিওনাল চেম্বার এবং মিশিগানঅটো বলেছে, বিভ্রান্তিকর বাণিজ্যনীতির কারণে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দ্রুত এর সমাধান না হলে, মিশিগানের গাড়ি শিল্প, সরবরাহ শিকল এবং এই শিল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ভোগান্তির শিকার হবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র গত বছর প্রায় ৮ মিলিয়ন গাড়ি আমদানি করেছিল, যার মূল্য প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার, যা মোট বিক্রির প্রায় অর্ধেক। মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি সরবরাহকারী শীর্ষ দেশ। এর পরেই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কানাডা এবং জার্মানি।