শরীয়তপুর ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গতকাল শনিবার সংঘর্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন। শাহজাদপুরে সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘর, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটের ঘটনা ঘটে।
শরীয়তপুরের সখিপুরে একচালা একটি ঘর ভেঙে ফেলা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাবা, ভাই, চাচা, আইনজীবীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উত্তর সখিপুরের কান্দি এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইউএনও মুহাম্মদ আল-আমিনের বাবা আমজাদ সরকার (৭০), ভাই মামুন সরকার (৩৫), চাচা মোয়াজ্জেম সরকার (৬০) প্রমুখ। মুহাম্মদ আল-আমিন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে কর্মরত আছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উত্তর সখিপুরের কান্দি এলাকার প্রবাসী রেজাউল মোল্লার সঙ্গে তার চাচাতো ভাই মনসুর মোল্লার জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকালে মনসুর মোল্লা শতাধিক লোক নিয়ে রেজাউলের একটি টিনের ঘর ভেঙে ফেলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুপক্ষের লোকজন দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সখিপুর থানার ওসি ওবায়দুল হক বলেন, ‘দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহতও হয়েছেন। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের বড় ধুনাইল গ্রামে পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মূসা গ্রুপ ও হালিম গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর-লুটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকালে থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের বেড়া, শাহজাদপুর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও গ্রামবাসী জানান, বড় ধুনাইল গ্রামে মূসা গ্রুপের সঙ্গে হালিম গ্রুপের পূর্ববিরোধ ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালেও তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উভয়পক্ষই দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, ফালা, রামদা, টেটা, হাসুয়া, ইটপাটকেল, চাইনিজ কুড়াল, সর্কি নিয়ে একে অন্যের পের ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় ইটের আঘাতে এবং ফালা ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে কয়েকজন আহত হন। এ ছাড়া কিছু বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর ও লুট করা হয়েছে।
শাহজাদপুর থানার ওসি আসলাম আলী জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ থানায় মামলা করেনি।
এ ঘটনায় চেষ্টা করেও দুপক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।