প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, অচিরেই সুপ্রিম কোর্ট দেশের বিচার বিভাগের জন্য একটি স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান তৈরি করবে। এতে জনগণ বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ওপর আস্থা ফিরে পাবে। সুপ্রিম কোর্ট ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে গতকাল খুলনায় ‘জুডিশিয়াল ইনডিপেন্ডেন্স অ্যান্ড এফিসিয়েন্সি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি। খুলনার একটি হোটেলের কনফারেন্স কক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেমিনারের বিস্তারিত জানানো হয়।
প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিতকরণে বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং তার ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিবরণ তুলে ধরাসহ এর বিভিন্ন অনুষঙ্গের সফল বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সক্রিয়তার কারণেই দ্রুততম সময়ে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য অধ্যাদেশ প্রণয়ন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট কর্র্তৃক বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় তৈরির বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ প্রস্তুতের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের আন্তরিক সহযোগিতায় দেশের আদালতগুলোতে বিরাজমান মামলাজট নিরসনে বিভিন্ন স্তরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিচারকের পদ তৈরি হয়েছে, যা অদূর ভবিষ্যতে মামলাজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত তৈরির জন্য প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারে সুপ্রিম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট দ্রুত চালু করার বিষয়ে দুটি বিশেষ কমিটি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সেমিনারে প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারগুলো হতে রোডম্যাপ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে এবং এসব মতামত অন্তর্ভুক্ত করে অচিরেই সুপ্রিম কোর্ট দেশের বিচার বিভাগের সার্বিক আধুনিকায়নে একটি স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান তৈরির কাজ শুরু করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ওই স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশের বিচার বিভাগ যে নতুন যাত্রা শুরু করেছে তা পূর্ণতা পাবে এবং জনগণ বিচার বিভাগের ওপর হারানো আস্থা ফিরে পাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস। অনুষ্ঠানে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন পর্যায়ের আদালতের বিচারক ও স্থানীয় বারের নেতারা ও আইনজীবীরা অংশ নেন।