আরও ৮ মামলায় শ্যোন এরেস্ট শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ

চট্টগ্রামে জোড়া খুনের মামলায় ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেনকে সাতদিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশকে অনুমতি দিয়েছেন আদালত। শুনানি শেষে আজ রবিবার (১৩ এপ্রিল) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম খলিল এই আদেশ দেন। এর আগে পুলিশ তাকে (সাজ্জাদ) দশদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।

একইসঙ্গে পুলিশের পৃথক আবেদনের প্রেক্ষিতে সাজ্জাদকে আরও আটটি মামলায় গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখিয়েছেন আদালত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান, বাকলিয়া থানার জোড়া খুনের মামলায় আসামি সাজ্জাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এছাড়া নগরের চান্দগাঁও থানার পাঁচটি, বায়েজিদ বোস্তামি থানার একটি ও হাটহাজারী থানার দুটি মামলায় সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার  দেখান।

এর আগে গত ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং মল  থেকে সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা সূচি নামে এক নারী ও তার স্বামী আকরাম হোসেন। এর আগে ২৯ জানুয়ারি তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেন নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ।

সাজ্জাদ সিএমপির বায়েজি বোস্তামি থানার ওসি আরিফুর রহমানকে ফেসবুক লাইভে এসে পেটানোর হুমকি দিয়েছিলেন। সাজ্জাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ ১৬টির বেশি মামলা রয়েছে। সাজ্জাদকে পুলিশ গ্রেপ্তারের পর ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তার স্ত্রী শারমিন তামান্না।

সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা কাঁড়ি কাঁড়ি, বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছেড়ে আমার জামাইকে নিয়ে আসব। আমার জামাই বীরের বেশে চলে আসবে’।

সাজ্জাদকে গ্রেপ্তারের প্রায় দুই সপ্তাহ পরে (৩০ মার্চ ) নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় একটি প্রাইভেট কারকে ধাওয়া দিয়ে ব্রাশফায়ার করে দুজনকে হত্যা করা হয়। নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন বাবলা ও সাজ্জাদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্যের দ্বন্দ্ব এবং তাকে (সাজ্জাদ) ধরিয়ে দেওয়ার জেরে তার অনুসারীরা সরোয়ারের সহযোগীদের ওপর হামলা চালান বলে ধারণা পুলিশের।

এ ঘটনায় নিহত দুজনের একজন বখতিয়ার হোসেনের মা ফিরোজা বেগম বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় সাজ্জাদ, তার স্ত্রী শারমিন তামান্নাসহ সাতজনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্য পাঁচ আসামি হলেন- সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মো. হাছান, মোবারক হোসেন, মো. খোরশেদ, মো. রায়হান ও মো. বোরহান। 

এদিকে জোড়া খুনের মামলায় পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মো. বেলাল, মো. মানিক ও সজীব নামের তিনজনকে  গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর সজীব আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এতে তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন তারা নগরের অক্সিজেন এলাকায় চার ঘণ্টা বৈঠক করেন। এতে  নেতৃত্ব মো. হাছান। সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেওয়ায় সন্ত্রাসী সরোয়ারকে লক্ষ্য করে তারা প্রাইভেট কারে গুলি ছুঁড়েছিলেন।’ সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, সাতটি মোটরসাইকেলে ১৩ জন হামলায় অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল ১০টি পিস্তল ও শটগান।