ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র চীনসহ অন্যান্য দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে। তবে শুল্ক আরোপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন সংলাপে প্রস্তুত।
গতকাল রবিবার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন : প্রধান উপদেষ্টার যুগান্তকারী সফর’ শীর্ষক এক সম্মেলনের আয়োজন করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে। চীনের ওপরও করেছে। তবে চীন তার বন্ধু দেশগুলোকে পাশে নিয়েই এ বিষয়ে সমাধান প্রত্যাশা করে।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর একটি মাইলফলক। আমাদের সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে। চীন শুধু সরকার ও দল নয়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক চায়।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ কখনো তাইওয়ানকে দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরে বাংলাদেশের সেই পজিশন আবার উঠে এসেছে। তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষায় বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে চীন। সে জন্য কিছু চীনা কোম্পানি কারিগরি শিক্ষা খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের সময়ে ওই দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য অনেক আন্তরিক ছিলেন এবং এই রাজনৈতিক বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন
খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমি এটাকে বেশ কিছু কারণে অগ্রগতি বলছি। একটি হলো, চীনের রাষ্ট্রপতি আমাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করার জন্য তার স্বাভাবিক আচরণের বাইরে গিয়েছিলেন এবং এই রাজনৈতিক বিনিয়োগ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোর মধ্যে একটি। আমাদের এটি অত্যন্ত যতœসহ পরিচালনা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী এক মাসের মধ্যে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ২০০টি কোম্পানি নিয়ে ঢাকা আসবেন। আমার বন্ধু চীনের রাষ্ট্রদূত আমাকে বলেছেন যে এটি আরও অনেক হবে। তাই আমাদের প্রত্যাশা বাড়ছে। আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক তরুণ। আগামী দিনে তাদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের প্রয়োজন হবে।’
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘সফরের কিছু দিক আছে যা বলা হয়েছে, যা লেখা হয়েছে। কিন্তু কিছু দিক আছে বলা হয়নি, যেমন শারীরিক ভাষা, অঙ্গভঙ্গি। এটি আপনাকে বলে দেবে কতটা ভালো হয়েছে বা আমরা ভালো করিনি। রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং হলরুমে নেমে প্রধান উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা জানাতে এসেছিলেন, যা তিনি সাধারণত করেন না। তারপর তিনি সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবি তুললেন, যা সাধারণত করা হয় না। তিনি তার ভাইস প্রেসিডেন্টকে উপদেষ্টার জন্য একটি ভোজসভার আয়োজন করতে বলেন, যা খুবই বিরল। বৈঠকের সময় তিনি সত্যিই বিনীত ছিলেন।’
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, ‘ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্ককে আমরা জিরো সাম বা পারস্পরিক একচেটিয়া বলে মনে করি না।’
তিনি বলেন, ‘এমনকি চীনা রাষ্ট্রপতিও বলেছেন যে দক্ষিণ এশিয়া এবং এশিয়ার স্থিতিশীলতা এবং শান্তির জন্য, ড্রাগন এবং হাতিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটি একটি খুব ভালো জিনিস। আমাদের একে অন্যের সাফল্যে আনন্দ করা উচিত এবং একে অন্যকে সমস্যায় সাহায্য করা উচিত। তাই, যেমনটি আমি বলেছি, এগুলো পারস্পরিক একচেটিয়া নয়। আমরা উভয় সম্পর্ককে খুব দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করি। এগুলো আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।’
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক পরিস্থিতি নিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ‘যখন পরিস্থিতি প্রতিদিন পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন আমরা সুবিধা নিতে পারি না। তাই জিনিসগুলো স্বাভাবিক করতে হবে। আমাদের দেখতে হবে পরিস্থিতি কোথায় যাচ্ছে। আপনারা বাজার দেখতে পাচ্ছেন এবং বিশ্ব অনিয়মিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। তাই আমাদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে এবং তারপর দেখতে হবে কীভাবে আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে।’