‘রিজার্ভ চুরিতে পুরো দেশ লুটের পরিকল্পনা ছিল’

বাংলাদেশ ব্যাংকের আলোচিত রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তে তৎকালীন সরকারের সময় সীমাহীন গাফিলতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এটি আসলে পুরো বাংলাদেশ লুট করার একটি পরিকল্পনা ছিল। ২ বিলিয়ন ডলার যদি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চলে যেত, আজকে দুর্ভিক্ষ বা প্রায় দুর্ভিক্ষ অবস্থায় পড়তে হতো।

গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ নজরুল রিজার্ভ চুরির ঘটনা পর্যালোচনায় গঠিত কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা পর্যালোচনায় গত মাসে আইন উপদেষ্টাকে প্রধান করে ছয় সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি করে সরকার। পর্যালোচনা কমিটির সদস্যরা হলেন জ¦ালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালক আলী আশফাক ও রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল হুদা।

এই কমিটির কাজের পরিধি হিসেবে রয়েছে, কমিটি ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার তদন্তকাজের অগ্রগতি ও এ-সংক্রান্ত সরকারি অন্যান্য পদক্ষেপের পর্যালোচনা, এ ঘটনার দায়দায়িত্ব নির্ধারণ এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে। তিন মাসের মধ্যে কমিটিকে তাদের সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতিতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। পরে বিভিন্ন সময় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ফেরত আনা সম্ভব হয়। কিন্তু এখনো ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার ৩৯ দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

পর্যালোচনা কমিটির সিদ্ধান্ত

আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২ বিলিয়ন ডলার চুরি বা লুট করার পরিকল্পনা ছিল। শেষ পর্যন্ত পেরেছে ৮৮ মিলিয়ন ডলার। তার মধ্যে ৬৬ মিলিয়ন ডলার এখনো উদ্ধার করা যায়নি। বাকি টাকা উদ্ধার হয়েছে।

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় শেখ হাসিনা সরকার তদন্তে গড়িমসি করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেই বিপুল পরিমাণ টাকা লুট করা হয়েছে, সেটি নিয়ে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আমি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। কমিটিতে গভর্নরসহ আরও অনেকেই রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এটি আসলে পুরো বাংলাদেশ লুট করার একটি পরিকল্পনা ছিল। ২ বিলিয়ন ডলার যদি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চলে যেত, আজকে দুর্ভিক্ষ বা প্রায় দুর্ভিক্ষ অবস্থায় পড়তে হতো। এ বিষয়ে সিআইডির তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের যেই কর্মকর্তারা এ ঘটনায় জড়িত ছিল, তাদের কমিটি থেকে বাদ দিতে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাত হাজারের বেশি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা ৭ হাজার ১৮৪টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে সুপারিশ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। অনেক সময় এমন মামলা আসে, যেটা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা না। এ বিষয় আমাদের অফিসাররা খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন।