পান্তের ৬৩ ম্লান ধোনির ১১ বলে ২৬ রানের কাছে

আইপিএল ২০২৫-এর শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ছয় ম্যাচে ব্যাট হাতে ছিলেন নিষ্প্রভ। তবে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা কীভাবে বড় মঞ্চে ঘুরে দাঁড়াতে জানেন, তা আবারও প্রমাণ করলেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’। লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে চেন্নাই তাদেরই মাঠে পুরনো মাহি—ক্ষিপ্র উইকেটরক্ষক, ঠান্ডা মাথার ফিনিশার। টানা ৫ হারের পর দ্বিতীয় জয়ের মুখ দেখলো চেন্নাই। 

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠানো লখনৌ শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ধোনির চাতুর্যে একের পর এক উইকেট হারায় তারা। কিন্তু ঋষভ পান্ত একা দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যান। ৪৯ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে চারটি চার ও ছয়ের মার ছিল, যা কিছুটা অক্সিজেন জুগিয়েছিল দলকে। ধোনির দলের বিরুদ্ধেই ব্যাটে রান পেলেন ২৭ কোটির এই অধিনায়ক।

তবে ধোনির চাল ছিল নিখুঁত। ডিআরএসের সময়জ্ঞান, দুর্দান্ত স্টাম্পিং, আর উইকেটের পেছনে অসাধারণ রিফ্লেক্সে সাজঘরে ফেরালেন বাদোনি, সামাদ ও অবশেষে পান্তকে নিজেই। পাথিরানার বলে পান্ত যখন ক্যাচ তুলে দেন ধোনির হাতে, তখন বোঝা যাচ্ছিল—মঞ্চে আবারও একাই রাজত্ব করছেন মাহি।

 

লখনৌ ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৬৬ রান। লক্ষ্যটা খুব বড় ছিল না চেন্নাইয়ের জন্য। রাচিন রবীন্দ্র ও শেখ রশিদের ওপেনিং জুটি ভালো সূচনা দেয়। যদিও মাঝপথে কয়েকটি উইকেট হারায় সিএসকে, তবুও ম্যাচ যখন জমে উঠেছে, তখনই নেমে এলেন ধোনি।

মাত্র ১১ বলে ২৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেন তিনি। মারলেন ৩টি চার ও ১টি ছয়—একটি নিখুঁত ফিনিশারের ছাপ যেন রেখে গেলেন প্রতি শটে। সঙ্গে ছিলেন শিবম দুবে (৪৩*), যিনি ধোনির সঙ্গে গড়েন ম্যাচজয়ী জুটি।

পান্তের হাফসেঞ্চুরি যেন হারিয়ে গেল ধোনির অনবদ্য প্রত্যাবর্তনের গল্পে। ম্যাচ শেষে প্রশ্ন একটাই—এই বয়সেও মাহি কি এখনও টিমের সবচেয়ে বড় সম্পদ? উত্তরটা হয়তো একানা স্টেডিয়ামের গর্জনেই মিলেছে—‘হ্যাঁ’।