দীর্ঘ এক যুগ ধরে স্তন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ে চলেছিলেন লিন স্টুয়ার্ট। চিকিৎসা, ভালোবাসা আর অসীম মনোবল দিয়েও শেষরক্ষা হলো না। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ক্রিকেটার অ্যালেক স্টুয়ার্টের প্রিয়তমা স্ত্রী হার মানলেন জীবনের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষের কাছে। না–ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।
সারে কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব এক বিবৃতিতে লিন স্টুয়ার্টের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। ক্লাবটির চেয়ারম্যান অলি স্লিপার শোকবার্তায় বলেন, ‘সারে কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষ থেকে অ্যালেক এবং স্টুয়ার্ট পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। এই কঠিন সময়ে আমরা তাদের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা সবাইকে অনুরোধ করব, পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা যেন সম্মান করা হয়।’
লিন স্টুয়ার্টকে শ্রদ্ধা জানাতে আজ মিকি স্টুয়ার্ট মেম্বার্স প্যাভিলিয়নে ছিল পতাকা অর্ধনমিত। ওভালের ঐতিহাসিক মাঠে সারে দলের ক্রিকেটাররা নামেন কালো বাহুবন্ধনী পরে। ঘটনাটি যতটা শোকাবহ, ততটাই তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ, স্টুয়ার্ট পরিবারের ইতিহাস ওভাল ও সারে ক্লাবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
অ্যালেক স্টুয়ার্টের বাবা মিকি স্টুয়ার্ট ১৯৫৪ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত খেলেছেন সারেতে। ছেলে অ্যালেক শুরু করেন ১৯৮১ সালে, ক্লাবটির হয়ে খেলেছেন ২০০৩ পর্যন্ত। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে সারের ডিরেক্টর অব ক্রিকেটের দায়িত্বে আসেন তিনি। তাঁর অধীনে ক্লাবটি জেতে চারটি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ, যার মধ্যে সর্বশেষটি আসে ২০২৪ সালে। এরপর ডিরেক্টরের পদ ছেড়ে ‘হাই পারফরম্যান্স ক্রিকেট অ্যাডভাইজার’ হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি।
তখনই স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্ত্রী লিনের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘তাকে এখন বেশি সময় দিতে হবে।’ ২০১৩ সাল থেকেই ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়ছিলেন লিন।
ব্যক্তিগত জীবনে যেমন নিবেদিত, তেমনি ক্রিকেটেও অ্যালেক স্টুয়ার্ট ছিলেন কিংবদন্তি। ১৯৮৯ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জার্সিতে ৩০৩ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৩ হাজার ১৪০ রান করেছেন ৩৬.২৯ গড়ে। টেস্টে ১৩৩ ম্যাচে করেছেন ৮৪৬৩ রান, গড় ৩৯.৫৪। রয়েছে ১৫টি সেঞ্চুরি। ওয়ানডেতেও তার ব্যাট কথা বলেছে ১২ সেঞ্চুরি আর ৪৫ ফিফটিতে।
আজ সারে-হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের চতুর্থ দিন। ৩৭৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা হ্যাম্পশায়ার দিনের শুরুতে প্রয়োজন ছিল ১০৮ রান, হাতে ৫ উইকেট। তবে স্কোরবোর্ডের বাইরেও আজ ওভালে ভেসে বেড়িয়েছে এক অদৃশ্য আবহ—শোকের, ভালোবাসার, এবং এক অসীম সাহসিনীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধার।
লিন স্টুয়ার্টের এই লড়াই কেবল এক রোগের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ভালোবাসা ও জীবনের প্রতি অটুট বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি। আজ সেটাই হয়ে থাকল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।