ভারতের সঙ্গে মিল রেখে সময় নির্ধারণে খুশি জেলে-ব্যবসায়ীরা

সামুদ্রিক মাছসহ ৪৭৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর বাধাহীন প্রজনন, বংশবৃদ্ধি, উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই আহরণের জন্য গতকাল ১৫ এপ্রিল থেকে বঙ্গোপসাগরে শুরু হয়েছে মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এ সময়ে সাগরে সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত, মজুদসহ ক্রয়-বিক্রিয় নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর।

জেলেদের দীর্ঘদিনের প্রত্যশানুযায়ী নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করে মৎস্য অধিদপ্তরের অবরোধ আরোপে খুশি জেলে-ব্যবসায়ীরা।

এদিকে অবরোধ সফলে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর নিয়েছে নানা প্রস্তুতি। জেলে, ট্রলার মালিক ও আড়ত মালিকদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করছে জেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড। উপকূলীয় এলাকাসহ সর্বত্র চালানো হচ্ছে প্রচারণা।

জেলে, ট্রলার মালিক ও আড়ত মালিকরা জানায়, বৈশাখ থেকে গভীর সাগরে জেলেদের মাছ শিকারের সময় শুরু হলেও সামুদ্রিক মাছসহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার ২০১৫ সালের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছিল। কিন্তু এ সময়সীমা ভারতের সঙ্গে সংগতি না থাকায় তা নিয়ে বিরোধিতা করে আসছিলেন জেলে-ব্যবসায়ীরা। জেলেদের দাবি, বাংলাদেশের ৩৯ দিন আগে ভারতের অবরোধ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের অবরোধ চলাকালে ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করে। জেলেদের দীর্ঘদিনের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ভারতের সঙ্গে মিল রেখে এবার একই সময়ে অবরোধ করেছে। এতে খুশি জেলে-ব্যবসায়ীরা।

মহিপুর এলাকার জেলে বশির ও বাবুল, নিজামপুর এলাকার জেলে কবির বলেন, অবরোধকালে খাদ্য সহায়তার যে চাল দেওয়া হচ্ছে তা পর্যপ্ত নয়। এছাড়া জেলে তালিকাভুক্তির সময়ে প্রকৃত জেলেরা মাছ শিকারে ব্যস্ত থাকায় তাদের অনেকের নাম তালিকায় ওঠেনি। যাচাই-বাছাই করে নতুন তালিকা প্রণয়নের দাবি অনেক জেলের। 

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মাদ আলী বলেন, অবরোধের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণে সুবিধা পাবেন জেলে-ব্যবসায়ীরা।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, জেলায় নিবন্ধিত ৮১ হাজার জেলে থাকলেও এর মধ্যে গভীর সমুদ্রগামী ইলিশ শিকারি জেলে রয়েছেন ৪৭ হাজার। প্রত্যেক জেলেকে ৭৭  কেজি করে চাল প্রদান করবে সরকার। অবরোধের শুরুতেই জেলেদের মধ্যে খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।