যেন সব প্রাণ এসে মিশে গেল সর্বজনীন উৎসবে। এবারের বর্ষবরণ ছিল একটু আলাদা। ‘নতুন বাংলাদেশের’ উৎসবে ছিল নতুন ব্যঞ্জনা। ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ এই প্রতিপাদ্যে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ বরণ করে দেশবাসী। পাহাড়-সমতল ছিল উৎসবের রঙে রঙিন। উদযাপনে ধর্ম, বর্ণ-নির্বিশেষে সব শ্রেণিপেশার মানুষ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। আর এভাবেই এক সুরে এক বন্ধনে সারা দেশে উদযাপিত হয়েছে বর্ষবরণ পহেলা বৈশাখ।
সকাল ৯টার দিকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। এতে অন্যতম মোটিফ হিসেবে ছিল ‘স্বৈরাচারের প্রতিকৃতি’। জুলাই আন্দোলনে শহীদ মুগ্ধর সেই পানির বোতল। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ছিল তরমুজের মোটিফ।
এর আগে ভোরে রমনা বটমূলে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ। শুরুতেই সুপ্রিয়া দাসের কণ্ঠে শোনা যায় প্রভাতের ভৈরবী রাগালাপ। ছায়ানটের এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’। এবার ৫৮তম বারের মতো রমনার বটমূলে হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ।
এবারের নববর্ষের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের কনসার্ট ও ড্রোন শো। সন্ধ্যা ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ড্রোন শোতে ফুটিয়ে তোলা হয় জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্ত। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো ও মুগ্ধর পানি বিতরণের আইকনিক দৃশ্য। কনসার্টে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা : পহেলা বৈশাখের দিন সকাল ৯টার দিকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে এবারও রাজারবাগ পুলিশ লাইনস থেকে আনা হয় বেশ কয়েকটি ঘোড়া। এতে কেন্দ্রীয় মোটিফ হিসেবে ছিল ‘স্বৈরাচারের প্রতিকৃতি’। যদিও এই প্রতিকৃতি কয়েক দিন আগে আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর গত শনিবার রাত থেকে প্রতিকৃতি নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু ও অনুষ্ঠানের আগে তা শেষ হয়। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য, শহীদ মিনার, ঢাবির শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র, দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে চারুকলায় গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, শিক্ষার্থী, নারী, শিশুসহ নানা বয়স, শ্রেণি ও পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। শোভাযাত্রায় ছিল বিশেষভাবে তৈরি বৃহৎ ইলিশ মাছ, কাঠের তৈরি বাঘ, শান্তির প্রতীক পায়রা, পালকি, ঘোড়া, নানা পাখির মোটিফ, সুলতানি ও মুঘল আমলের মুখোশ, রঙিন চরকি, তালপাতার সেপাইসহ দেশের ঐতিহ্য বহন করে এমন সব শিল্পকর্ম। এ ছাড়া ইসরায়েলের আক্রমণে ফিলিস্তিনে তথা গাজায় চলা গণহত্যার প্রতিবাদ ও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশে ছিল তরমুজের মোটিফ, যেখানে ভেতরে লাল ও বাইরে সবুজ, যেটি ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। আরও ছিল ‘মুগ্ধের পানির বোতল’সহ বেশ কিছু থিম। এতে তুলে ধরা হয় বাংলার লোকজ ঐতিহ্য এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী বার্তা।
ছায়ানটের বর্ষবরণ : ভোরে রমনা বটমূলে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সুপ্রিয়া দাসের কণ্ঠে প্রভাতের ভৈরবী রাগালাপে হয় অনুষ্ঠানের সূচনা। ছায়ানটের এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’। এবার ৫৮তম বারের মতো রমনার বটমূলে হলো ছায়ানটের এই আয়োজন। ছায়ানটের অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছিল সম্মেলক ও একক কণ্ঠের গান এবং আবৃত্তি দিয়ে। অংশ নিয়েছিলেন দেড়শ শিল্পী। ছায়ানটের এই অনুষ্ঠান দেখতে ও শুনতে অনেকেই আসেন। ছায়ানটের অনুষ্ঠানে গান-আবৃত্তির শেষে নববর্ষের কথন থাকে। ছায়ানটের সভাপতি সংগীতজ্ঞ সন্জীদা খাতুন এই কথন পাঠ করলেও কিছুদিন আগে তার মৃত্যুর পর এবার এই দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী। কথন শেষে তিনি ফিলিস্তিনের জনগণের মুক্তির সংগ্রামের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানান। এ ছাড়া ফিলিস্তিনে নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করে অনুষ্ঠানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নববর্ষের কনসার্ট ও ড্রোন শো : নববর্ষের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের কনসার্ট ও সন্ধ্যায় ড্রোন শো। এর আয়োজন করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে কারিগরি সহায়তা দেয় চীনা দূতাবাস। আর অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বান্দরবানের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর গানের দল ‘বেসিক গিটার লার্নিং স্কুল’র খুদে শিল্পীদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কনসার্ট শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসব সাংগ্রাইয়ের একটি গান পরিবেশন করে বেসিক গিটার লার্নিং স্কুলের খুদে শিল্পীরা। এরপর মঞ্চে গান পরিবেশন করে রাফি অ্যান্ড রকারস (আর অ্যান্ড আর) ব্যান্ড দলের সদস্যরা। পরে কণ্ঠশিল্পী পারসাসহ কয়েকজন শিল্পী সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশন করে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানটি। কনসার্টটি হাজার হাজার মানুষ উপভোগ করেন।
সন্ধ্যায় ড্রোন শোতে ফুটে উঠল জুলাই আন্দোলন : সন্ধ্যা ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে হয় ড্রোন শো। এতে ফুটিয়ে তোলা হয় জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্ত। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো, মুগ্ধর পানি বিতরণের আইকনিক দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয় ড্রোন শোতে। ড্রোন শোতে জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ, শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবিতে ছাত্র- জনতার প্রতিবাদসহ ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সময়কালকে বিভিন্ন প্রতিকৃতির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। এতে দেখানো হয়, ২৪-এর বীর, পায়রার খাঁচা ভাঙা থিম, ফিলিস্তিনের জন্য প্রার্থনা এবং বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের শুভেচ্ছা বার্তা।
উৎসবের আমেজ আইইবিতে : গান, আড্ডা, নৃত্য, জাদু, আবৃত্তি, শোভাযাত্রা আর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করলেন প্রকৌশলীরা। গত সোমবার বৈশাখের বর্ণাঢ্য এই আয়োজন করা হয় রাজধানীর রমনায় পেশাজীবী প্রকৌশলীদের একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) চত্বরে। আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। এরপর নতুন ভবনের সামনের উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠিত হয় মূল অনুষ্ঠান। বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ছাপিয়ে আইইবি চত্বর হয়ে উঠেছিল প্রকৌশলীদের মিলনমেলা। আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিলেন সবাই। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজউকের চেয়ারম্যান ও আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল ‘দেশ রূপান্তর’।
আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী কে এম আসাদুজ্জামানের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় একের পর এক মন মাতানো, চোখ ধাঁধানো নানা আয়োজনের সঙ্গে ছিল নানা পদের বাঙালি খাবারের পসরা। জাদু শিল্পী দম্পতি প্রেমলাল ও লাবণ্য তাদের জাদুর ঝাঁপি খুলে দেখাতে লাগলেন নানা ধরনের জাদু। তা দেখে উপস্থিত সবাই থ হয়ে গেলেন। জাদুর মোহ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় গান ও নৃত্য। সঙ্গে ছিল কবিতা আবৃত্তিসহ মজার মজার সব আয়োজন। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কণাসহ অন্য শিল্পীদের গাওয়া গানের সুরের মূর্ছনায় বিমোহিত হয়ে পড়েন উপস্থিত সবাই। মনমাতানো এসব অনুষ্ঠান উপভোগের পাশাপাশি মজাদার বাঙালি খাবারের স্বাদ নিতে বেলা গড়িয়ে কখন যে দুপুর হয়ে গেল, তা খেয়ালই ছিল না কারোরই।
আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইইবির নেতা প্রকৌশলী আহসানুল রাসেল, প্রকৌশলী উমাশা উমায়ন মনি চৌধুরী, প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ আইইবি সদর দপ্তরের নির্বাহী কমিটি, ঢাকা কেন্দ্রের নির্বাহী কমিটি, আইইবির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল, ডিভিশনাল বিভাগীয় কমিটি, আইইবি মহিলা কমিটির বিভিন্ন নেতা। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ৫ শতাধিক প্রকৌশলী সপরিবারে অংশ নেন এই অনুষ্ঠানে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বিভিন্ন সংগঠন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ পালন করেছে। কিন্তু পহেলা বৈশাখের আগের দিন ডিসি হিলে অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা মঞ্চ ভাঙচুর ও কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা জনমনে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। ফলে নতুন বছর উদযাপনের উচ্ছ্বাসকে, যা কিছুটা হলেও মøান করেছে। সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ ডিসি হিলের অনুষ্ঠান বাতিল করলেও সিআরবি শিরীষতলার নববর্ষের আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নববর্ষ উদযাপন পরিষদ। পহেলা বৈশাখ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সেখানে চলে নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
খুলনা থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, খুলনায় আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উদযাপিত হয়েছে। গত সোমবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বর্ষবরণ, আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, লোকজ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকালে খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণ থেকে বর্ষবরণ, আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ হাদিস পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ-উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বৈশাখী আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হাসপাতাল ও এতিমখানায় ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, বর্ণাঢ্য আয়োজনে গাজীপুরে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, জেলা ও মহানগর বিএনপি, গাজীপুর প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান দিবসটি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পালন করে। সোমবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীনের নেতৃতে একটি র্যালি বের করা হয়।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, বর্ণাঢ্য ও বর্ণিল নানা আয়োজনে পঞ্চগড়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখে বরাবরের মতো এবারও মূল আকর্ষণ ছিল নববর্ষ বরণ, আনন্দ শোভাযাত্রা। জেলা কালেক্টরেট চত্বর থেকে সকালে একটি বর্ণাঢ্য বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
বরিশাল প্রতিনিধি জানান, বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে বরিশালে আয়োজন করা হয় বর্ণিল শোভাযাত্রা ও প্রভাতি অনুষ্ঠান। তবে এবারের আয়োজন ছিল তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংস্কৃতিককর্মীরা। সোমবার সকালে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে বরিশাল বিএম স্কুল মাঠে হয় প্রভাতি অনুষ্ঠান। গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শিল্পীরা নতুন বছরকে স্বাগত জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মঞ্চে এসে শেষ হয়। উদ্বোধন করা হয় লোকজ মেলার।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলা বছরকে বরণ করে নিয়েছে ঠাকুরগাঁওবাসী। এর পাশাপাশি এই পহেলা বৈশাখ বরণের উৎসবে মেতে উঠেছেন ঠাকুরগাঁও জেল কারাগারের কারাবন্দি সবাই। সোমবার সকালে জেলা কারাগারের আয়োজনে কারাবন্দিদের জন্য করা হয় পহেলা বৈশাখের এই আয়োজন।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শাহজাদপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ঢোলবাদ্য বাজিয়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী সাজে সজ্জিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদে চত্বরে এসে শেষ হয়।
শেকৃবি প্রতিনিধি জানান, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) পালিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। করোনা, রমজান ও ঈদের ছুটির কারণে ২০১৯ সালের পর এই প্রথম শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পহেলা বৈশাখ উৎসব হলো।
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, সকালে পার্বতীপুর উপজেলা প্রশাসন ও পার্বতীপুর আদর্শ ডিগ্রি কলেজ আলাদাভাবে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রায় পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে অংশ নেন পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মো. আব্দুস ছালাম, পার্বতীপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আহছান হাবীবসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশক্রমে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল সকালে বর্ষবরণ উপলক্ষে বৈশাখী শোভাযাত্রা হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও কালিয়াকৈর পৌরসভার সাবেক মেয়র মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ শোভাযাত্রা হয়।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা