চট্টগ্রামে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া পৃথক ধারায় উভয়কে আরও ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রামের ৪র্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম সিরাজাম মুনিরা এ রায় দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন- ভোলার তজুমুদ্দিন থানার শম্ভুপুর ইউনিয়নের গোলকপুর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে মো. ফরহাদ (৩৩) এবং একই থানার পশ্চিম আড়ালিয়া গ্রামের মৃত হাশেম মিস্ত্রির ছেলে মো. সেলিম প্রকাশ মনির (৩৫)।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ জানান, মামলায় ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ৩০২ ধারায় উভয়কে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড পাশাপাশি ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া ২০১ ধারায় প্রত্যেককে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও ৩ মাসের কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় উভয় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদালত সূত্র জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত ফরহাদ পেশায় দিনমজুর। তার স্ত্রী থাকতেন ভোলা জেলায়। সংসারের নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হলে ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জেসমিনকে খুনের পরিকল্পনা করে ফরহাদ। পরে জেসমিনকে কৌশলে চট্টগ্রাম নগরের একে খান গ্যাসলাইন এলাকার পাহাড়ে নিয়ে ফরহাদ ও তার দুঃসম্পর্কের মামা সেলিম গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
এ ঘটনায় ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর জেসমিনের ছোট ভাই বাদী হয়ে আকবর শাহ থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের হওয়ার পরপরই ফরহাদকে নারায়ণগঞ্জ এবং সেলিমকে ভোলা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর তারা দুজন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও তৎকালীন উপপরিদর্শক মোহাম্মদ ছায়েম ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর এ ঘটনায় ফরহাদ ও মো. সেলিমকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং একই বছরের ১৭ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪র্থ আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।