প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর ধানম-ি থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ‘মিস আর্থ বাংলাদেশ ২০২০’ বিজয়ী মডেল মেঘনা আলমকে। গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া আবেদন মঞ্জুর করেন। শুনানির আগে মেঘনা আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে মেঘনা আলম তার সঙ্গে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আল দুহাইলানের সঙ্গে সম্পর্ক আছে বলে দাবি করেন। তিনি (মেঘনা আলম) ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না বলেও মন্তব্য করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের প্রধান কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী। শুনানিতে তিনি বলেন, এই আসামিরা অভিনব কৌশলের মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্রদূতসহ অ্যাম্বাসিগুলোতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ফাঁদে ফেলে বিপুল অর্থ বাগিয়ে নেওয়ার জন্য চক্র তৈরি করেছেন। প্রতারণা করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন তারা। মেঘনা আলমের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না। একপর্যায়ে বিচারকের অনুমতি নিয়ে কথা বলা শুরু করেন মেঘনা আলম। আদালতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কেউ চাইলেই পূর্ব অনুমতি ছাড়া সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করতে পারে না? আমাকে বিনা বিচারে জেলে পাঠানো হয়েছে। ঈসার সঙ্গে আমার একমাত্র সম্পর্ক, আর কারও সঙ্গে না। ঈসা আমাকে ফোনও করেছে।’ এরপর বিচারক চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো আবেদন মঞ্জুর করেন। অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেঘনা আলম, দেওয়ান সমিরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে গত ১৫ এপ্রিল এ মামলাটি হয়। গতকাল এই মামলায় মেঘনা আলমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে। আর সমিরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। তিনি আরও জানান, সমিরকে ভাটারা থানায় করা আরেকটি চাঁদাবাজির মামলায় ১১ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হলে ১২ এপ্রিল তাকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় আদালত।
গত ৯ এপ্রিল রাতে মডেল মেঘনা আলমকে ঢাকার বসুন্ধরার বাসা থেকে আটক করে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকার একটি আদালত তাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩০ দিন আটক রাখার আদেশ দেয়। আটকের আগে মেঘনা আলম ফেসবুক লাইভে এসে বাসার ‘দরজা ভেঙে পুলিশ পরিচয়ধারীরা’ ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন। মডেল মেঘনা আলমকে রাতে যে প্রক্রিয়ায় বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা ঠিক ছিল না বলে গত ১৩ এপ্রিল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। একই দিন মেঘনা আলমের বাবা বদরুল আলমের করা এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন দ্বৈত বেঞ্চ মেঘনা আলমকে আটক ও তাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটকাদেশ দেওয়ার বৈধতা প্রশ্নে রুল দেয়।