টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। লাহোরে ৬ দলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দ্বিতীয় হয়েছে জ্যোতি-নাহিদারা।
নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলে ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। তবে উইন্ডিজের পর গতকাল লাহোরে পাকিস্তানের কাছে হেরে যাওয়ায় বিশ্বকাপের মূলপর্বে যাওয়ার সমীকরণটা কঠিন হয়ে পড়ে জ্যোতিদের। বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হয় উইন্ডিজ-থাইল্যান্ড ম্যাচের দিকে। সেই ম্যাচে থাইল্যান্ড ১৬৭ রানের লক্ষ্য দেয় উইন্ডিজকে। বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে উইন্ডিজকে জয় পেতে হতো ১০.১ ওভারে। তবে স্কোর সমান করে চার বা ছক্কা মেরে জেতার বেলায় সমীকরণটা ছিল ভিন্ন। শেষ পর্যন্ত উইন্ডিজ নারী দল ১০.৫ ওভারে ১৬৮ করে ম্যাচ জিতলেও নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হয় জ্যোতিদের। বাংলাদেশের নেট রানরেট ০.৬৩৯ আর উইন্ডিজের ০.৬২৬।
স্কোর সমান হওয়ার পর চার মেরে জিতলে ১০.৪ ওভারে জিতলেও চলত উইন্ডিজের, সেটি হয়নি। তাদের সামনে সুযোগ ছিল ১০.৫ ওভারে স্কোর সমান করে শেষ বলে ছক্কা মেরে বিশ্বকাপে যাওয়ার। অর্থাৎ ১১ ওভারে ১৭২ তুলতে পারলেও নেট রানরেটে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলত উইন্ডিজ। লক্ষ্য তাড়ায় ইনিংসের শুরু থেকেই মারমুখী ছিলেন উইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন হেইলি ম্যাথুস। ফিল্ডার ক্যাচ ধরলেও বোলার মায়ার নো বলে বেঁচে যান তিনি। ম্যাথুস ফিফটি পূর্ণ করেন ২১ বলে। যা ওয়ানডেতে দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি। মনে হচ্ছিল দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে দলকে বিশ্বকাপে নেবেন ম্যাথুস।
২৯ বলে ৭০ রান করে ম্যাথুস যখন ফিরলেন ৩ ওভারে হিসাব মেলাতে ৬২ রান দরকার উইন্ডিজের। এরপর শিনেল হেনরি ১৭ বলে ৫ ছক্কায় ৪৮ রান করলেও হিসাব মেলেনি ক্যারিবীয়দের। ১০.৪ ওভার শেষে উইন্ডিজের স্কোর ছিল ১৬২ রান। ফলে ক্যারিবীয়দের সামনে সুযোগ ছিল ওভারের পঞ্চম বলে চার মেরে স্কোর সমান করে তার পরের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার। কিন্তু ১০.৫ ওভারে স্টেফানি টেলরের শটটি ছক্কা হয়ে গেলে ম্যাচ উইন্ডিজ জিতলেও নিশ্চিত হয়ে যায় নেট রানরেটে বাংলাদেশের পেছনেই থাকছে তারা। ফলে বিশ্বকাপে না যেতে পারার হতাশায় মøান হয় থাইল্যান্ডের বিপক্ষে উইন্ডিজের জয়ের আনন্দ।
তার আগে লাহোরের সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ নারী দল তোলে ৯ উইকেটে ১৭৮ রান। ৭ ওভারের মধ্যে দলীয় ২১ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার ফারজানা (৭ বলে ০), দিলারা আক্তার (১৩) এবং অধিনায়ক নিগার সুলতানা (১) কেউই ভরসা দিতে পারেননি। চাপের মুখে চতুর্থ উইকেটে ৪৪ রানের জুটি গড়েন রিতু মনি ও শারমিন আখতার। ১৮তম ওভারে শারমিন (২৪) আউট হওয়ার পর নাহিদা আক্তারকে নিয়ে ৪৪ রানের আরেকটি জুটি উপহার দেন রিতু। পাঁচে নামা রিতু মনির ব্যাট থেকে আসে ৭৬ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৮ রান। ৫৩ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে ফাহিমা দলের সংগ্রহ বাড়ান।
জবাব দিতে নেমে পাকিস্তান জয় পায় ৭ উইকেটে, ৬২ বল হাতে রেখে। পাকিস্তানের হয়ে মুনেবা আলী ৬৯ এবং আরিয়া রিয়াজ অপরাজিত ৫২ রান করেন।
ভারতে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ ছয়ে থেকে আগেই বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হয় স্বাগতিক ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার।