থাপ্পড় নয় নাসুমকে ‘টোকা’ দিয়েছিলেন হাথুরুসিংহে, দাবী হেরাথ-পোথাসের

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর খেলোয়াড়দের ব্যর্থতার পাশাপাশি আলোচনায় এসেছিল আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ—নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চেন্নাইয়ের ম্যাচের আগে নাকি স্পিনার নাসুম আহমেদকে থাপ্পড় মেরেছিলেন তৎকালীন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। বিসিবির পারফরম্যান্স মূল্যায়ন কমিটি তদন্ত করে মনে করেছিল, অভিযোগটি নিরর্থক নয়। তবে সময় গড়িয়েছে, বদলে গেছে বোর্ড, হাথুরুসিংহেও ফিরে গেছেন অস্ট্রেলিয়ায়।

এবার সেই হাথুরুর পাশে দাঁড়ালেন তার দুই সাবেক সহকর্মী—স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ ও সহকারী কোচ নিক পোথাস। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম কোড স্পোর্টস–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁরা দুজনই জানিয়েছেন, নাসুমকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও অতিরঞ্জিত।

হেরাথ বলেন, 'আমি স্পষ্টভাবে বলতে পারি, এমন কিছুই ঘটেনি। আমি সেখানে ছিলাম। চড় মারা আর পিঠে টোকা দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। কেউ হয়তো গল্প বানিয়েছে, কিন্তু প্রমাণ কোথায়?'

নিক পোথাসের ব্যাখ্যাও একই সুরে, 'আমি হাথুরুকে খুব ভালোভাবে চিনি। তিনি একজন পেশাদার কোচ। যদি এমন কিছু করতেন, তাহলে এতদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে টিকে থাকতে পারতেন না। এটা মনে হয় কারও ক্ষোভ থেকে ছড়ানো গল্প। নাসুমও হয়তো বুঝে ওঠেনি, ঘটনাটা কতটা বড় রূপ নেবে।'

পোথাস আরও বলেন, 'খেলোয়াড়দের পিঠে চাপড় মারা মাঠে সাধারণ ঘটনা। ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় হাতের ইশারায় বোঝাতে হয়।'

অভিযোগ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন হাথুরুসিংহে নিজেও। কোড স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'ব্যাটসম্যানদের গ্লাভস পাঠাতে বলছিলাম বলে ডাগআউটে আমার পেছনে বসা নাসুমের পিঠে টোকা দিয়েছিলাম মাত্র। কখনো কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ঝগড়া করিনি। আবেগ দেখানো তো দূরের কথা।'

হাথুরুর দাবি, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বরখাস্ত করেছে বিসিবি, 'ক্রিকেটই আমার জীবন। কিন্তু তারা আমার কথা না শুনেই চুক্তি বাতিল করে দিল। এতে আমার কোচিং ক্যারিয়ারই ধ্বংস হয়ে গেছে।'

সরাসরি বিসিবির বর্তমান সভাপতি ফারুক আহমেদের দিকেই অভিযোগের তীর ছুড়েছেন হাথুরু, 'নতুন সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এটা তার পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ ছিল। জানি না, অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত কত সুযোগ আমি হারিয়েছি!'

বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হিসেবে দুই মেয়াদে প্রায় ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেছেন হাথুরুসিংহে। দ্বিতীয় মেয়াদটা শেষ হলো বিতর্কের ধুলায় ঢাকা পড়ে। তবে সত্যি কী ঘটেছিল—তা হয়তো কখনোই জানা যাবে না।