বাংলাদেশ ক্রিকেট দীর্ঘদিন ধরেই কোনো বড় সুখবরের মুখ দেখছে না। এমনকি সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলমান টেস্টেও এখনও পর্যন্ত আশানুরূপ পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি টাইগাররা। ঠিক এমন এক সময়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরক এক অভিযোগ তুলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান।
গতকাল রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন খুলনার সন্তান সোহান। তাতে খুলনার স্থানীয় ক্রিকেটে ‘সিন্ডিকেটের’ রাজত্ব নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সাফ জানিয়ে দেন, কিছু স্বার্থান্বেষী সংগঠকের কারণে খুলনার ঘরোয়া ক্রিকেট কার্যত ধ্বংসের মুখে।
সোহান লিখেছেন, 'একটা সময় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অসংখ্য বড় তারকা ক্রিকেটার খুলনা বিভাগ থেকেই উঠে আসতো। কিন্তু কিছু সুবিধাভোগী ক্রিকেট সংগঠকদের ব্যবসায়ীক স্বার্থে ক্রমশই ক্রিকেটে পিছিয়ে পড়ছে খুলনার লোকাল ক্রিকেটাররা। প্রায় ৮-১০ বছর ধরেই খুলনা কোনো লীগ হচ্ছেনা যার ফলে বঞ্চিত হচ্ছে খুলনা বিভাগের লোকাল ক্রিকেটাররা। বিভিন্ন সময়ে অনেকে উদ্যোগ নেয়ার পরও কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির কারনে খুলনার ক্রিকেট নিয়ে কাজ করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। এইসব ব্যক্তির কারনে খুলনায় ঘরোয়া টুর্নামেন্টও আয়োজন সম্ভব হয়নি বিগত বছরগুলোতে। যার ফলে খুলনার অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণদের ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়েছে এবং এর দায়ভার তারা কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। স্বার্থান্বেষী এইসব সংগঠকদের কারনে ক্রমশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্রিকেট এবং ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট তরুণরা। এইভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে শুধু খুলনার ক্রিকেট না, বাংলাদেশ ক্রিকেটও ধ্বংসের পথে যাবে।'
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এসেছেন খুলনা বিভাগের নড়াইল থেকে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান মাগুরার সন্তান। সাতক্ষীরার দুই ক্রিকেটার সৌম্য সরকার ও মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করছেন। অথচ এমন একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চলেই ক্রিকেট কার্যক্রমে চলছে চরম অব্যবস্থা—এমন চিত্রই তুলে ধরেছেন সোহান।
এদিকে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিসিবি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু অনিয়মের খোঁজ পেয়েছে বলে জানা গেছে। দুদকের তদন্তে কোটি কোটি টাকার গরমিল ধরা পড়েছে, এমন খবর গণমাধ্যমে আসার পর এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, বোর্ড প্রতিনিধি হিসেবে দুদককে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন তারা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট যখন একের পর এক সংকটে জর্জরিত, তখন স্থানীয় পর্যায়ের এমন অভিযোগ নতুন করে ভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে—ক্রিকেটের শিকড় কতটা মজবুত আছে আদৌ? সোহানের এই খোলামেলা ক্ষোভ হয়তো সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজে ফিরছে।
ফিক্সিং তদন্তের মাঝেই টেকনিক্যাল কমিটির পদ ছাড়লেন মনি
রিভিউ নিয়ে আরভিনকে ফিরিয়ে লাঞ্চে নাহিদরা