ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শেখ পরিবারের ১০ সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) লক করেছে নির্বাচন কমিশনের অধীন জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনু বিভাগ। সম্প্রতি এনআইডি অনু বিভাগের মহাপরিচালকের মৌখিক নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, লক করা এনআইডি মানে হলো এর কোনো তথ্য যাচাই, সংশোধন বা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ফলে এ ধরনের এনআইডি ব্যবহার করে আর কোনো সেবা গ্রহণ করতে পারবেন না। এতে করে এই ১০ জনের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই কিংবা সংশোধনের সুযোগ থাকছে না।
যাদের এনআইডি লক করা হয়েছে, তারা হলেন শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক, শাহিন সিদ্দিক, বুশরা সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং তারিক আহমেদ সিদ্দিক। এ-সংক্রান্ত এক আদেশে জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনু বিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীরের মৌখিক নির্দেশনায় মাস দুয়েক আগে তাদের এনআইডি ‘লক’ করা হয়েছে। আদেশপত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর রয়েছে ।
ইসির এনআইডি অনু বিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, এনআইডি নানা কারণে লক করা হয়। লক করার পর এনআইডি যাচাই-বাছাই করা যায় না। এ ছাড়া যে এনআইডি লক করা হবে সেটা আর কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হলেও তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এনআইডি লক করা হয়ে থাকে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, অনেক সময় ভিভিআইপিদের অনুরোধও কোনো কোনো সময় নিরাপত্তা নিশ্চিতে এনআইডি লক করা হয়। আবার তাদের অনুরোধে তা খুলে দেওয়া হয়। তবে এনআইডি লকের সঙ্গে নির্বাচনে ভোট দেওয়া বা প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থাকে না।