কতটা পথ পেরোলে তবে পথিক বলা যায়/ কতটা পথ পেরোলে পাখি জিরোবে তার দায়/ কতটা অপচয়ের পর মানুষ চেনা যায়/ প্রশ্নগুলো সহজ, আর উত্তরও তো জানা।
শিল্পী কবীর সুমন গানের এই কথার জবাব পেয়েছিলেন কি না জানা নেই। তবু কখনো কখনো সহজ প্রশ্নের উত্তর মেলে না সময়মতো। ঠিক যেমনটা হচ্ছে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে। অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম আর নিবেদন যেখানে প্রশ্নাতীত সেখানেই এখন বড় প্রশ্ন, ব্যাটে কেন নেই সেই চেনা ধার?
লাল বলেই এখন সব মনোযোগ মুশফিকুর রহিমের। বিদায় জানিয়েছেন সাদা বলের আšত্মর্জাতিক ক্রিকেটকে। কিন্তু যেটিকে ভালোবেসে আঁকড়ে ধরেছেন, সেই টেস্টেই মিলছে না সান্ত্বনা। গত সাত টেস্টের ১৩ ইনিংসে (একটি ইনিংস ব্যাট করেননি) ব্যাট করে মুশফিক করেছেন ৩৩৯ রান। যার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপড়্গে ১৯১ রানের ইনিংসটি সর্বোচ্চ। বাকি ইনিংসগুলোতে তিনি যথাক্রমে ৩, ২২, ৮, ১৩, ১১, ৩৭, ১১, ৩৩, ০, ২, ৪, ৪। আর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের শেষ তিন ইনিংসেও তার রান ছিল এক অঙ্কের ঘরে।
জিম্বাবুয়ের বিপড়্গে টেস্ট সিরিজের সাতদিন আগে থেকেই সিলেট আšত্মর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দেন মুশফিক। ঘাম ঝরিয়েছেন নিয়মিত, অনুশীলনে ছিলেন নিবেদিত। কিন্তু মাঠে নামার পর ফলটা সেই পুরনো, খাতা খুলেই ফেরার হতাশা। সিলেটে মুশফিক খেলেছেন তার ক্যারিয়ারের ৯৫তম টেস্ট। আর ৫টি টেস্ট হলেই টেস্ট খেলার সেঞ্চুরি, যে অর্জন নেই আর কোনো বাংলাদেশির। ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ কি এভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে খেলে ১০০-তে পৌঁছাবেন প্রশ্ন অনেকের।
সিলেটে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল হকের কাছে মুশফিককে ইঙ্গিত করে এক সাংবাদিক প্রশ্ন রেখেছিলেন- ‘কতটা ইনিংসে বাজে খেলার পর একজন ব্যাটসম্যানকে বিশ্রাম বা একাদশ থেকে বাদ দেওয়া যায়?’ সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘উত্তরটা জানা নেই তার।’
তবে সতীর্থকে নিয়ে আশাবাদী মুমিনুল বলেন, ‘আমি কোনোভাবেই উনাকে নিয়ে চিন্তিত না। উনি জানেন কীভাবে রানে ফিরে আসতে হয়। উনি বাংলাদেশ দলের জন্য কী করেছেন এটা অনেকে ভুলে যায়। উনি যা যা অর্জন করেছেন টেস্টে বাংলাদেশের জন্য এটা কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া যাবে না। এখন যেহেতু দুই ফরম্যাট থেকে অবসর, এখন আরও ভালো খেলবে আমার মনে হয়। একটা লাইনেই থাকবেন আপনি তখন ভালো করা সহজ হয়ে যায়।’
তবে আগামী ৫ টেস্টে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে কোনো আলোচনা চান না বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান মোহাম্মদ আশরাফুল, বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার গৌরব অর্জন করবে কেউ। তাই মুশফিক রান করম্নক কিংবা না করম্নক, আমি তার ব্যাটিং নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আশা করি দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়াবে সে। দীর্ঘদিন পর টেস্ট খেলতে নামা একটা বড় কারণ। সবাই ওয়ানডের মেজাজে ছিল ডিপিএলে। সেখান থেকে গিয়ে ক্যাম্প করলেও সেই ধরনটা রয়ে গেছে।’
মুশফিক নিশ্চয়ই জানেন ব্যাটিংয়ের এই নি¯ত্মব্ধতা ভেঙে কীভাবে আবার ঝড় তোলা যায়।