হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২২০ কোটি ডলারের অর্থায়ন বন্ধের জন্য মামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যালান গার্বার গত সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর, গত সপ্তাহে ফেডারেল সরকার একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছে। তহবিল স্থগিত করাকে আমরা বেআইনি এবং সরকারের ক্ষমতার বাইরে হিসেবে অভিহিত করছি।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে করা মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার, জ্বালানি বিভাগ এবং সাধারণ পরিষেবা প্রশাসন। সম্প্রতি, ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনতে নির্দেশ দিয়েছিল, বিশেষত ইহুদি-বিদ্বেষ মোকাবিলায়। কিন্তু হার্ভার্ড কর্র্তৃপক্ষ এসব নির্দেশ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে হোয়াইট হাউজ তহবিল বন্ধ করার পাশাপাশি কর-ছাড় সুবিধা বাতিলের হুমকি দেয়। মামলায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকার এমন সব গুরুত্বপূর্ণ তহবিলের ওপর আক্রমণ করেছে, যেগুলো দিয়ে অমূল্য গবেষণা সম্ভব হয়। হার্ভার্ড প্রেসিডেন্ট গার্বার বলেন, তহবিল স্থগিতের ফলে শিশু ক্যানসার, আলঝেইমার, পারকিনসনস রোগ সম্পর্কিত গবেষণাসহ গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, হার্ভার্ডে অ্যাকাডেমিক সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে সরকার। তহবিল আটকানোর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দিন আগে হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষমতাও কমানোর হুমকি দিয়েছিল।
এদিকে শুল্ক নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই এবার শুল্কবহির্ভূত অপরাধ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার শুল্কবহির্ভূত অপরাধের আটটি দফা প্রকাশ করেছেন তিনি এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব দেশ এসব অপরাধ করবে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক চিরতরে নষ্ট হতে পারে। ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এ হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি। চীন ছাড়া বাকি দেশগুলোর ওপর চাপানো নতুন শুল্কনীতির ওপর ৯০ দিনের স্থগিতাদেশ দেওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় ট্রাম্প এ নতুন হুঁশিয়ারি দিলেন।
ট্রাম্প ঘোষিত আটটি অপরাধের মধ্যে রয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে মুদ্রার হার বদল, পণ্যের ওপর আমদানি-শুল্কের মতো মূল্যযুক্ত কর (ভ্যাট) চাপানো, উৎপাদন মূল্যের কমে রপ্তানি এবং অন্যান্য সরকারি ভর্তুকি, প্রতিরক্ষামূলক কৃষি ব্যবস্থা (যেমন ইউরোপে জিনগতভাবে উৎপাদিত ভুট্টা না থাকা), প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তি (জাপানের ‘বোলিং বল’ পরীক্ষা, যা ব্যবহার করে জাপান মার্কিন গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোকে জাপানি গ্রাহকদের কাছে বিক্রির জন্য প্রতারণা করে বলে অভিযোগ), জাল নোট তৈরি, পাইরেসি এবং শুল্ক এড়াতে দফায় দফায় পণ্য রপ্তানি।
এদিকে শুল্ক আরোপের খেলায় থামছেনই না ট্রাম্প। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চারটি দেশের সোলার প্যানেলের ওপর সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫২১ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের সোলার প্যানেলের ওপর সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫২১ শতাংশ শুল্ক আরোপের এই ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এসব দেশের সোলার প্যানেলের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা চীনের ভর্তুকি নিচ্ছে এবং মার্কিন বাজারে থাকা পণ্যগুলোতে প্রভাব ফেলছে।