কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে সমবেত হন শিক্ষার্থীরা। সেখানে কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন তারা। চারদিকের সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল; যার প্রভাবে শাহবাগ ও এর আশপাশ এলাকায় মাঝরাতেও যানজট লেগেছিল। এদিকে উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষক প্রতিনিধিদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। গত সোমবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুর পর্যন্ত অনশনরত চারজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের একজনকে নগরীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া দুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিয়েছেন। অসুস্থ অন্য একজনকে গত সোমবার রাতে তার অভিভাবকরা নিয়ে গেছেন।

গতকাল রাতে শাহবাগে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্যে মিলিত হয়ে তারা শাহবাগ অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন। উপাচার্যের পদত্যাগে মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন তারা। ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হলে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনার প্রায় দুই মাস পর ১৪ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কুয়েট শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে সোমবার থেকে অনশনে বসেছেন ৩২ শিক্ষার্থী।

কুয়েট শিক্ষার্থীদের ওই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ঢাবির একদল শিক্ষার্থী আন্দোলন করছেন। এর আগেও তারা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা বলছেন তারা। শাহবাগে গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, আমাদের এক দফা, এক দাবি। কুয়েটের দালাল ভিসি পদত্যাগ না করলে আমরা ‘ব্লকেড কর্মসূচি’ চালিয়ে যাব।

মুশফিকুজ্জামান নামের ঢাবির আরেক শিক্ষার্থী বলেন, কিছু সময়ের জন্য জনদুর্ভোগ হলেও এর মাধ্যমে যদি দালাল ভিসির পদত্যাগ হয়, তাহলে তা কুয়েটসহ সব ক্যাম্পাসের জন্য আশার বাণী ও দখলবাজদের জন্য হুঁশিয়ারি।