গণপরিবহন না থাকায় বিপাকে ১০ লাখ মানুষ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে এক হাজারেরও বেশি শিল্প কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া রূপগঞ্জে গড়ে ওঠা পূর্বাচল উপশহরের গুরুত্বকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। রূপগঞ্জ উপজেলা ঢাকার খুব কাছে হলেও মামলা-মোকদ্দমা, অফিস-আদালতের কাজের জন্য সবাইকে নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরে যেতে হয়। নারায়ণগঞ্জে যেতে রূপগঞ্জ থেকে সরাসরি নেই কোনো গণপরিবহনের ব্যবস্থা। ফলে বছরের পর বছর ভোগান্তিতে পড়ছে রূপগঞ্জের ১০ লাখ বাসিন্দা। রূপগঞ্জ উপজেলায় আঞ্চলিক মহাসড়ক আছে, আছে ব্রিজ-কালভার্টও। মানুষ আধুনিকায়নের সঙ্গে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরানোর চেষ্টা করলেও এখানে যাত্রীবাহী বাসের চাকা ঘোরে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক দখল করে চলে নসিমন, ইজিবাইক, অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান। বাস চলাচল না করায় ঝুঁকি নিয়েও এসব অবৈধ যানবাহনেই চলাচল করতে হচ্ছে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, এমনকি প্রাণহানিও। উপজেলায় অনুমোদিত রিকশার সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। ইজিবাইকের সংখ্যা ৮ হাজারের ওপর। যোগ হয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। প্যাডেলটানা রিকশাকে পেছনে হটিয়ে দিচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। ব্যাটারিচালিত রিকশাকে টেক্কা দিচ্ছে ইজিবাইক। যত্রতত্র থামছে যানবাহনগুলো, নামছে যাত্রীরা। ফলে দুর্ঘটনার শঙ্কাও থাকছে। উপজেলাজুড়ে রাস্তাঘাটগুলো বেহাল, কোথাও খোয়া ওঠা, কোথাও খানাখন্দে ভরা। অনেক জায়গায় দেখা গেছে, রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বাস-মিনিবাস না থাকায় বেশি সমস্যায় পড়েন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও চাকরিজীবীরা।

সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গণপরিবহন থাকলে শিক্ষার্থীদের অনেক উপকার হতো। তাদের অনেক কষ্ট করে আসা-যাওয়া করতে হয়। সরাসরি কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। রাজধানী ও জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে চলে নানা অজুহাতে যাত্রী হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়।’ নারায়ণগঞ্জ আদালতে কর্মরত মিজানুর রহমান বলেন, ‘রূপগঞ্জ থেকে সরাসরি নারায়ণগঞ্জ জেলায় কোনোকালেই গণপরিবহন চালু ছিল না। এ কারণে জেলামুখী কর্মজীবী যাত্রী সাধারণকে ভেঙে ভেঙে অথবা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিজার্ভ নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে হয়। এতে যাত্রীদের সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগছে।’

খলিলুর রহমান নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় বাস চলাচল না করাটা লজ্জাজনক। যে এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ, সে এলাকা উন্নত বলাটা কতটুকু যৌক্তিক তা বুঝতে পারছি না।’ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তাজাল্লি ইসলাম বলেন, ‘রূপগঞ্জের মতো একটি শিল্প ও ভিআইপি এলাকায় গণপরিবহন নেই এটা কি ভাবা যায়? এখানে অনেক ব্যবসায়ী-শিল্পপতি রয়েছেন। তারা বক্তি উদ্যোগে গণপরিবহন নামাতে পারেন। এতে সবার উপকার হতো।’ এ বিষয়ে ইউএনও সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চালু করতে হলে স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের প্রশাসনিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’