গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের (মানি লন্ডারিং) অভিযোগে নোবেল বিজয়ী ও প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসহ (এখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা) সাতজনের মামলার কার্যক্রম বাতিলের আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করেছে সর্বোচ্চ আদালত। একই সঙ্গে হাইকোর্টের ওই আদেশটি বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ গতকাল বুধবার এ রায় দেয়। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলেন, এ রায়ের ফলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এ মামলার কার্যক্রমের কোনো বৈধতা থাকল না।
গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০২৩-এর ৩০ মে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ প্রতিষ্ঠানটির ১২ জনের নামে মামলা করে দুদক। এ মামলার অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়ার পর গত ২৯ জানুয়ারি ড. ইউনূসসহ প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। গত বছর ৩ মার্চ এ মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পান ড. ইউনূস ও অন্যরা। গত বছর ১২ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। পরে মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে গত বছর ৮ জুলাই ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সাতজন হাইকোর্টে আবেদন করেন। ২৪ জুলাই হাইকোর্ট তাদের আবেদন খারিজ করে রায় দিয়ে মামলাটি এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। পরে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়।
ড. ইউনূস ছাড়া অন্য আবেদনকারীরা হলেন গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, পরিচালক আশরাফুল হাসান, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূর জাহান বেগম (বর্তমানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা) ও এসএম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী।
এদিকে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের কৌঁসুলির পক্ষে এ মামলাটি প্রত্যাহার চেয়ে বিচারিক আদালতে আবেদন করা হলে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ গত বছর ১১ আগস্ট প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেয়। ড. ইউনূসসহ অন্যদের লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) মঞ্জুর করে গত বছর ২১ অক্টোবর আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। পাশাপাশি আপিল মামলার সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলে আদালত। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৯ মার্চ আপিলের ওপর শুনানি শেষে রায়ের জন্য ২৩ এপ্রিল (গতকাল) ধার্য করে সর্বোচ্চ আদালত।
আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আসিফ হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ মামলাটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ও ভিত্তিহীন। তারা (দুদক) আগেই (গত বছর ১১ আগস্ট) মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছিল। যেটি ছিল অনাকাক্সিক্ষত। কেননা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা আইনি বিষয় আইনগতভাবে মোকাবিলা করতে চেয়েছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপিল বিভাগ আমাদের আপিল অ্যালাউ করে হাইকোর্টের রায়টিকে বাতিল করেছেন। ফলে এ মামলার আর কোনো কার্যকারিতা থাকল না।’
অ্যাডভোকেট আসিফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা (মামলাটি) একটা অনাকাক্সিক্ষত হয়রানি। তার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) মতো একজন মান্য লোক, নোবেল বিজয়ী, তার মতো মানুষকে এভাবে অপদস্থ করা ঠিক ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে মামলাটা আর থাকল না, মামলাটা বাতিল হলো।’