ভারতের সিন্ধু চুক্তি স্থগিতে পাকিস্তানে কী প্রভাবে পড়বে 

কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ২৬ পর্যটকের মৃত্যুর পর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, এ ঘটনার জেরে নয়াদিল্লি পাঁচটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো বহু পুরনো সিন্ধু নদীর পানি চুক্তি স্থগিত ঘোষণা।

১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তান ছয়টি নদীর পানি ভাগাভাগির অধিকার পায়। রাভি, বিয়াস ও সুললেজের পানি ভারতের জন্য নির্ধারিত, আর সিন্ধু, ঝিলুম ও চিনাবের পানি বরাদ্দ পাকিস্তানের জন্য। কয়েক দশক ধরে টিকে থাকা এই চুক্তিকে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো।

তবে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘রক্ত ও জল একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না।’ যদিও সেসময় চুক্তি বাতিলের পথে হাঁটেননি তিনি। এবারের হামলার পর মোদি সরকার আর দেরি করেনি।

ভারতের দাবি, হামলার দায় স্বীকারকারী সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্ট ফ্রন্ট’ আসলে নিষিদ্ধ ঘোষিত লস্কর-ই-তৈয়বার একটি শাখা, যার কার্যক্রম পাকিস্তান থেকেই পরিচালিত হয়।  

চুক্তি স্থগিতের ফলে পাকিস্তানের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটিতে ইতিমধ্যে পানির ভয়াবহ সংকট চলছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্বল ব্যবস্থাপনাকে এর পেছনে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।

এনডিটিভি বলছে, সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করার পদক্ষেপটি নয়াদিল্লির পাকিস্তানের প্রতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশারই বহিঃপ্রকাশ। অতীতে পাকিস্তান একে সরাসরি ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ বলেও আখ্যা দিয়েছিল।