সোনাগাজীতে আসামিদের স্বীকারোক্তি

খুন-পঙ্গু করার বদলা নিতে বিএনপিকর্মীকে হত্যা 

ফেনীর সোনাগাজীতে আবুল হাসেম নামে বিএনপিকর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পূর্বশত্রুতার জেরে খুন ও পঙ্গু করার বদলা নিতে ১০ জন মিলে এ হত্যাকা- চালান বলে স্বীকার করেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা তুজ জোহরা মুনা ও অপরাজিতা দাশের আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করে। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মামলার প্রধান আসামি আক্তার হোসেন, ১১ নম্বর আসামি রাকিবুল ইসলাম, তদন্তে শনাক্ত আসামি বেলায়েত হোসেন মামুন ও সোলেমান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে আসামিরা জানান, কয়েক মাস পরিকল্পনার পর ২২ এপ্রিল রাত আড়াইটার দিকে তারা বোরকা ও মাস্ক পরে ওলামা বাজারসংলগ্ন সাজেদা ফাউন্ডেশনের পেছনে অবস্থান নিয়ে হত্যাকা- চালানোর প্রস্তুতি নেন। সেদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসেম ওই সড়ক অতিক্রম করবেন বলে তথ্য পান তারা। ওই সময় তারা সড়কের দুই পাশের বৈদ্যুতিক পিলারে রশি বেঁধে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। হাসেম ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র তারা তাকে রড, লাঠি ও দা দিয়ে কুপিয়ে শরীর থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে তাকে হত্যা করেন। স্বীকারোক্তি প্রদানকারী সোলেমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও মূল সড়ক এড়িয়ে হত্যাকারীরা যাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেন তার ব্যবস্থা করেন এবং ওলামাবাজারে অবস্থান নিয়ে নিহত হাসেমের গতিবিধির তথ্য হত্যাকারীদের সরবরাহ করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক হাসান বলেন, পূর্বশত্রুতা, বেলাল হত্যা মামলায় হাসেমের সংশ্লিষ্টতা ও স্থানীয় সুফিয়ান মেম্বারকে পঙ্গু করার ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই তারা এ হত্যার পরিকল্পনা করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি বায়েজীদ আকন বলেন, এ মামলায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারসহ চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য তিনজন এখনো জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল ভোরে সোনাগাজী উপজেলার ওলামাবাজার এলাকায় আবুল হাসেমকে কুপিয়ে হত্যা করেন বোরকা পরা সন্ত্রাসীরা। পুলিশ প্রধান আসামি আক্তার হোসেনের স্বীকারোক্তিতে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত আলামত তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুস শুক্কুর বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পাঁচজনকে আসামি করে সোনাগাজী থানায় হত্যা মামলা করেন।