বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডে কারিগরি ত্রুটির কারণে গতকাল বিকেলের দিকে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ১৫ জেলার গ্রাহকরা কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকখানি স্বাভাবিক হলেও রাত সোয়া ৯টা পর্যন্ত কিছু এলাকা ছিল বিদ্যুৎবিহীন।
দেশে বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী রাষ্ট্রীয় একমাত্র প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি জানিয়েছে, গতকাল বিকেল পৌনে ৬টায় বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডে আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির ফলে সমগ্র বরিশাল বিভাগ এবং খুলনা বিভাগের কিছু অংশ গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে যায়। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এসব এলাকাকে পুনরায় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
ঠিক কী ধরনের কারিগরি সমস্যা হয়েছিল তা নির্দিষ্ট করে তাৎক্ষণিক জানাতে পারেননি প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। কারণ অনুসন্ধান চলছে বলে তারা জানান।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ভৌগোলিক এলাকা বাদে, খুলনা, বরিশাল ও বৃহত্তর ফরিদপুর বিভাগের ২১টি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) লিমিটেড।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ হায়দার আলী গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাতীয় গ্রিডের সমস্যার কারণেই মূলত এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন ১২ থেকে ৯৬ মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে থাকে। শনিবার (গতকাল) রাতের মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ওজোপাডিকো সূত্রমতে, গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে তাদের প্রায় ১৬ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ১২ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া জেলাগুলো হলো খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা।
গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছিলেন ওজোপাডিকোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ জানিয়েছে, গ্রিড বন্ধের পর দক্ষিণাঞ্চলের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়। পায়রা ও রামপালের মতো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্ধ হয়ে যায়। তাই গ্রিড চালু করা হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম গতকাল রাত ৯টার দিকে দেশ রূপান্তরকে বলেন, হয়তো কোনো মাইনর ইস্যু (ছোটখাটো কারণ) ছিল। তবে আমাদের কেউ এ বিষয়ে রিপোর্ট করেনি। গ্রিডলাইনের কারণে ওই এলাকায় বর্তমানে কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ নেই।
দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন) মো. আব্দুর রহিম মল্লিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, বরিশাল, ঝালকাঠিসহ ওজোপাডিকোর আওতাধীন যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ বিঘিœত হয়েছে আরইবিরও সেসব এলাকাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। তবে বেশিরভাগ এলাকাতেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক। রাতের মধ্যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে আশা করছি।
আরইবির ঠিক কতজন গ্রাহক বিদ্যুৎ নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ওজোপাডিকোর চেয়ে এ সংখ্যা কয়েকগুণ হবে বলে আভাস দিয়েছেন কর্মকর্তারা।