ইশরাককে মেয়র ঘোষণা

আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের অপেক্ষা করেনি ইসি

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করতে গেজেট নোটিফিকেশনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য অপেক্ষা করেনি। তিনি আরও বলেছেন, ‘ওনারা (ইসি) নিজেরা গেজেট নোটিফিকেশন করেছেন। এখানে আমার বলার কিছু নেই।’ গতকাল সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। আইন ও বিচার উপদেষ্টার এ মন্তব্যের বিষয়ে ইসির তরফে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে আইনি নোটিস : ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির মেয়র ঘোষণা করে দেওয়া রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করতে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। এতে ইশরাক হোসেনের নামে গেজেট প্রকাশ এবং শপথ পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। গত রবিবার ঢাকার কাকরাইলের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. মামুনুর রশিদের পক্ষে আইনজীবী মনিরুজ্জামান স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, ঢাকার সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও ইশরাক হোসেন বরাবর এ নোটিস পাঠান। যদিও ওইদিন রাতে গেজেট প্রকাশিত হয়।

বিচারকাজে বিড়ম্বনা, সময় অর্থ ব্যয় কমানোই প্রধান লক্ষ্য : আইন উপদেষ্টা

নানা আয়োজনে গতকাল সোমবার পালিত হলো ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান’ দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দ্বন্দ্বে কোনো আনন্দ নাই, আপোষ করো ভাই, লিগ্যাল এইড আছে পাশে কোনো চিন্তা নাই।’ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত আখিম ট্র্যোস্টারকে সঙ্গে নিয়ে লিগ্যাল এইড রোড শো ও লিগ্যাল এইড মেলার উদ্বোধন করেন আইন ও বিচার উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর আমার প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বিচারকাজে বিড়ম্বনা কমানো, সময় বাঁচানো ও অর্থ ব্যয় কমানো। এজন্য ইতিমধ্যেই আমরা বেশকিছু সংস্কারকাজ করেছি।’ তিনি বলেন, দেওয়ানী কার্যবিধির যুগান্তকারী বেশকিছু সংশোধন করা হয়েছে যা উপদেষ্টা পরিষদে নীতিগতভাবে অনুমোদন হয়েছে। আশা করছি, উপদেষ্টা পরিষদের আগামী সভায় এটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করবে।

ফৌজদারি কার্যবিধিতেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘যদি বিচার করার সময় অর্ধেকে নামিয়ে আনা যায় এবং ৪০ শতাংশ মামলা জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রধান সংস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায়, তাহলে বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য অনেক বড় একটা কাজ করা হবে।’

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সেরা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সেরা প্যানেল আইনজীবীর হাতে সম্মাননাসূচক ক্রেস্ট তুলে দেন আইন ও বিচার উপদেষ্টা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রধান সংস্থার পরিচালক (জেলা ও দায়রা জজ) সৈয়দ আজাদ সুবহানী।