বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের অবস্থান এক হওয়া উচিত। বিগত বছরে যারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির জন্য অন্তর্র্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি একথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে আবারও স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অবজ্ঞা ও অবহেলামূলক বক্তব্য অপশক্তিকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে সহায়তা করবে। এ ছাড়া করিডরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে হবে নির্বাচিত সংসদ থেকে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সব রাজনৈতিক দলকে জনগণের আদালতে তোলার ব্যবস্থা অন্তর্র্বর্তী সরকারকেই করতে হবে।’ জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা দিতে জনগণের নির্বাচিত সরকার দরকার মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশে স্বাধীনভাবে ভোট প্রদানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।’
এদিকে রাখাইনে করিডর দেওয়া না, দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জনগণের কাছ থেকে আসতে হবে বলে মনে করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে হবে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের মাধ্যমে।’ মহান মে দিবস উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার শ্রমিক দলের উদ্যোগে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের রাখাইনে সহায়তা পাঠানোর জন্য ‘মানবিক করিডর’ স্থাপন নিয়ে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণ মনে করে, করিডর দেওয়া না-দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে হবে জনগণের কাছ থেকে। সিদ্ধান্ত আসতে হবে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের মাধ্যমে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক বিশ্বের দেশে দেশে এটাই নিয়ম, এটাই রীতি।’
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে লিপ্ত মিয়ানমারের রাখাইনে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশকে করিডর হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে অন্তর্র্বর্তী সরকার নাকি নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্র্বর্তী সরকার কিন্তু জনগণকে জানায়নি। এমনকি জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও কোনো আলোচনা করার প্রয়োজন বোধ করেনি।’
দেশের জনগণকে না জানিয়ে অন্তর্র্বর্তী সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না, কিংবা নেওয়া উচিত কি না, এই মুহূর্তে সেই বিতর্ক তুলতে চান না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির বক্তব্য স্পষ্ট বিদেশিদের স্বার্থ নয়, অন্তর্র্বর্তী সরকারকে সবার আগে দেশের জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। সঞ্চালক ছিলেন শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম। রাজধানীর আশপাশের জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এই সমাবেশে অংশ নেন।